প্রবাসী ভোট নিবন্ধন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনে বড় সাফল্য, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিত করছে ইসি।
প্রবাসী ভোট নিবন্ধন নিয়ে এবার বড় অগ্রগতির খবর দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৬০ জন প্রবাসী ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬১ জন পুরুষ এবং ২৪ হাজার ৯৯৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রবাসীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
এই প্রবাসী ভোট নিবন্ধন সংখ্যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমবার আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা

এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে—
-
প্রবাসী বাংলাদেশিরা
-
আইনি হেফাজতে থাকা নাগরিক
-
ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এজন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী ভোট নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৯ নভেম্বর, যা চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এই ডিজিটাল পদ্ধতি নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করবে বলে আশা করছে ইসি।
যেসব দেশে চলছে প্রবাসী ভোট নিবন্ধন
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী ভোট নিবন্ধন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ হলো—
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, মরক্কো, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া, মিসর, ব্রাজিল, হংকং, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু, গাম্বিয়া, ঘানা, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, মোজাম্বিকসহ আরও অনেক দেশ।
এই বিস্তৃত তালিকা প্রমাণ করে, বৈশ্বিক পরিসরে প্রবাসী ভোট নিবন্ধন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
পোস্টাল ব্যালট কীভাবে কাজ করবে
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ইসি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠাবে। ভোটাররা—
-
ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করবেন
-
নির্ধারিত ফিরতি খামে ব্যালট রাখবেন
-
ডাকযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন
এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।
ইসি জানিয়েছে, পুরো ব্যবস্থাটি নিরাপদ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রবাসী ভোট নিবন্ধন করা ভোটারদের ভোট সঠিকভাবে গণনায় আসে।
৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার লক্ষ্য
নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংখ্যায় থেমে থাকা নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে—
-
সচেতনতামূলক প্রচারণা
-
দূতাবাস ও মিশনের সহযোগিতা
-
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন
ইতোমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ভোট নিবন্ধন বাড়লে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতি
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে এই পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই উদ্যোগকে নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।




