প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন, ব্যালট পাঠানো ও ভোট প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানুন সহজভাবে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ লাখ ৬ হাজার ১৫২ জন প্রবাসী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই সংখ্যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রবাসী ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই নিবন্ধনের হিসাব পাওয়া গেছে। নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০০ জন পুরুষ এবং ২৬ হাজার ৫২ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
প্রথমবার আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা
এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, পদ্ধতির দিক থেকেও ব্যতিক্রম। নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই ব্যবস্থার আওতায়—
-
প্রবাসী বাংলাদেশিরা
-
আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা
-
ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা
ডাকযোগে ব্যালট পেপার ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।
এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে হলে নির্ধারিত অ্যাপে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এজন্য ইসি চালু করেছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ, যা সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
নিবন্ধনের সময়সীমা ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—
-
নিবন্ধন শুরু: ১৯ নভেম্বর
-
নিবন্ধন শেষ: ২৩ ডিসেম্বর
এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবাসীদের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সময়সীমা শেষে নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
ইসি জানিয়েছে, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের ঠিকানায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যালট পেপার পাঠানো হবে।
যেসব দেশে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন চলছে
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন চলছে—
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, লিবিয়া, মরিশাস, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু, উগান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, ঘানা, মরক্কো, আলজেরিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদানসহ আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বহু দেশে।
এই বিস্তৃত তালিকা প্রমাণ করে যে, ইসি বৈশ্বিকভাবে প্রবাসীদের ভোটের আওতায় আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভোট দেওয়ার ধাপগুলো হবে—
-
ইসি নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পেপার ডাকযোগে পাঠাবে
-
ভোটার নির্ধারিত ব্যালটে ভোট প্রদান করবেন
-
পূরণকৃত ব্যালট ফেরত খামে করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে
-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছানো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে
এই পুরো প্রক্রিয়ায় ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ফেব্রুয়ারিতে ভোট, বড় লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
বিশেষ করে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে ইসির লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। কমিশন চায়—
👉 ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে
বর্তমান নিবন্ধনের সংখ্যা সেই লক্ষ্যের দিকে একটি শক্তিশালী সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রবাসী ভোটাধিকার কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম। রেমিট্যান্স থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি গঠনে তাদের অবদান রয়েছে।
তাই প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সফল হলে—
-
গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বাড়বে
-
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে
-
প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পোস্টাল ভোট
বিশ্বের বহু দেশে প্রবাসী ও দূরবর্তী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা ও নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সূত্রে।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ
যদিও প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে—
-
সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো
-
ডাক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা
-
ভোটারদের সচেতনতা
ইসি জানিয়েছে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ডাক বিভাগ ও কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনে ৪ লাখ ছাড়ানো নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সফল হলে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোটাধিকার আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়।
নির্বাচনের আগে বাকি সময়টুকুতে নিবন্ধনের সংখ্যা কতদূর বাড়ে, সেটিই এখন সবার নজরের কেন্দ্রে।




