রাজধানীতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ, মোহাম্মদপুর থানা ঘেরাও চলল চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে; আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, মামলা তদন্ত করছে পুলিশ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে রাজধানী মোহাম্মদপুর থানা ঘেরাও করেন। রাত ১টার দিকে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরের এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরিতে চাঁদার জন্য সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ফ্যাক্টরির মালিক আবির এমব্রয়ডারি ও শ্রমিকদের ওপর ১০–১২ জনের একটি গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।

মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
হামলার পেছনের ঘটনা
এসি আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, “আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরিতে আজ বেতন দেওয়া হচ্ছিল। এই সময় হামলাকারীরা ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে শ্রমিক ও মালিক উভয়েই রয়েছেন।”
ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে অন্য ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা ছিনতাইকারীদের লিডার রাসেলের বাড়ি ঘেরাও করেন। রাসেলকে না পেয়ে তার বাবাকে অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তাকে হেফাজতে থানায় নিয়ে আসা হয়।
রাজধানী মোহাম্মদপুর থানা ঘেরাওয়ে উত্তেজনা
থানার সামনে উত্তেজিত জনতা জড় হয় এবং নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। স্থানীয়রা দাবি করে, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিক একটি মামলা করেছেন। পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান। যেই অপরাধী হোক না কেন, আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এই ধরনের রাজধানী মোহাম্মদপুর থানা ঘেরাও পুনরায় না ঘটার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয়রা থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিকের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি মনিটর করছে।
সমাধান ও নিরাপত্তা
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে তারা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর টহল জোরদার করা হয়েছে।




