রোকেয়া পদক ২০২৫-এ নারী শিক্ষা ও অধিকার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৪ নারীকে প্রধান উপদেষ্টার হাতে সম্মাননা দেয়া হলো।
প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক ২০২৫-এ সম্মানিত করা হয়েছে। এই পদক তাদের সংগ্রাম ও প্রেরণাকে দেশের সামনের সারিতে তুলে ধরে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের হাতে পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পদকটি শুধু একটি সম্মান নয়, বরং নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় চলমান আন্দোলনের প্রেরণা।
রোকেয়া পদক ২০২৫-এর বিজয়ীরা
এই বছর পদক লাভ করেছেন:
-
নারীশিক্ষা শ্রেণি (গবেষণা): রুভানা রাকিব
-
নারী অধিকার শ্রেণি (শ্রম অধিকার): কল্পনা আক্তার
-
মানবাধিকার শ্রেণি: নাবিলা ইদ্রিস
-
নারী জাগরণ শ্রেণি (ক্রীড়া): ঋতুপর্ণা চাকমা
এই নারীদের কাজ শুধু তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রেই নয়, সমগ্র সমাজে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, রুভানা রাকিবের গবেষণা নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কল্পনা আক্তারের শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আন্দোলন দেশে শ্রমিক নারীদের অধিকারের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

রোকেয়া দিবস ও পদকের তাৎপর্য
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে। দিবসটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হল নারী শিক্ষার প্রসার, নারী অধিকার ও সমতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা। এই দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে প্রতিবছর নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।
রোকেয়া পদক ২০২৫ নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে। পদকপ্রাপ্ত নারীরা দেশের অন্য নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছেন।
নারীশিক্ষা ও অধিকার: এক ক্রমবর্ধমান আন্দোলন
নারীশিক্ষা ও অধিকার এখন দেশের উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শিক্ষিত নারী সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। রোকেয়া পদক প্রমাণ করে যে, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আরও জানতে পারেন আমাদের Shikor TV Canada-এর নারী উন্নয়ন সম্পর্কিত রিপোর্ট থেকে।
মানবাধিকার ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীর অবদান
নাবিলা ইদ্রিসের মানবাধিকার কাজ ও ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রভাব সমাজে নারীর স্থান সুদৃঢ় করছে। বিশেষত ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
উৎসাহ ও প্রেরণার বার্তা
রোকেয়া পদক ২০২৫ শুধু সম্মান নয়, এটি একটি বার্তা: নারীর নেতৃত্ব, শিক্ষা, অধিকার ও মানবাধিকারের জন্য অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই পদক নারী শিক্ষার্থী ও সমাজের অন্য সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।




