এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (75)
পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: জানে তারা হারবে—কীর্তি আজাদ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নাটকীয় মন্তব্য
Shikor Web Image (54)
বিশ্বকাপের সময় বিসিবির আয়োজনে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’
Shikor Web Image (24)
বিশ্বকাপ ছিটকে গেলেন প্যাট কামিন্স
Shikor Web Image (21)
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালের প্রতিশোধ নিতে চায় ভারত
Shikor Web Image (18)
বাংলাদেশ ইস্যুর মাঝেই নতুন করে বিপাকে আইসিসি

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ: মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত শিরোপা

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে সাবিনারা। মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত শিরোপা জয়ের পূর্ণাঙ্গ খবর পড়ুন।

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ—এই বাক্যটি এখন শুধু একটি শিরোপার ঘোষণা নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা।

রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে সাত দেশের অংশগ্রহণ ছিল। ছয় ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে প্রথম সাফ নারী ফুটসাল শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা এই অর্জনকে করেছে আরও গৌরবময়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বাংলাদেশ

শেষ ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধেই মালদ্বীপের রক্ষণভাগ ভেঙে ৬-১ গোলে এগিয়ে যায় সাবিনা-মাসুরারা। দ্রুত পাস, নিখুঁত ফিনিশিং আর পরিকল্পিত প্রেসিংয়ে মালদ্বীপ ছিল সম্পূর্ণভাবে চাপে।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ আরও বাড়ে। বিরতির পর আরও ৮টি গোল করে বাংলাদেশ। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১৪-২। এই বড় জয় নিশ্চিত করে যে সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ—এটি কেবল ফলাফল নয়, বরং শক্তির প্রকাশ।

অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের অনন্য নেতৃত্ব

এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। শেষ ম্যাচে তিনি একাই করেন ৪টি গোল। পুরো টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩-তে, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়েছে।

সাবিনার নেতৃত্ব নতুন কিছু নয়। বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ে তার অধীনে বাংলাদেশ আগেও বহু সাফল্য পেয়েছে। তবে ফুটসালে এসে, যেখানে অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত, সেখানেই শিরোপা জেতা প্রমাণ করে তার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর।

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হওয়ার পথচলা

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের শুরুতে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ফুটসালে বাংলাদেশের মেয়েদের অভিজ্ঞতা নেই—এমন মন্তব্য ছিল সাধারণ।

কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দেয়, নতুন ফরম্যাট হলেও মানসিকতা একই। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ড্র কিছুটা শঙ্কা তৈরি করলেও, পরের ম্যাচগুলোতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক জয় সেই শঙ্কা দূর করে দেয়।

শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের জয় ছিল পুরো টুর্নামেন্টের প্রতিচ্ছবি—আত্মবিশ্বাসী, সংগঠিত এবং লক্ষ্যভেদী।

পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের আধিপত্য

ছয় ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ১৬। সমান ম্যাচে ভুটান পেয়েছে ১১ পয়েন্ট। বাকি দলগুলো ছিল অনেকটাই পিছিয়ে। গোল ব্যবধানেও ছিল বাংলাদেশের বিশাল পার্থক্য।

এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তার ফল।

ফুটসালে নতুন দিগন্ত খুলে দিল সাবিনারা

ফুটবলের তুলনায় ফুটসাল ভিন্ন গতির খেলা। ছোট মাঠ, দ্রুত সিদ্ধান্ত আর টানা প্রেসিং—সবকিছুতেই আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন। তবুও সাবিনা, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মাসুরা পারভীনরা দ্রুতই মানিয়ে নিয়েছেন।

এই টুর্নামেন্ট প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ফুরিয়ে যাননি। বরং নতুন চ্যালেঞ্জে নিজেদের আরও শক্তভাবে তুলে ধরেছেন। সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হওয়া সেই প্রমাণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটসালে বাংলাদেশের অবস্থান

এই শিরোপার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অবস্থান আরও সুসংহত হলো। ফুটবলের পর ফুটসালেও শিরোপা জেতা বাংলাদেশকে বহুমাত্রিক শক্তিতে পরিণত করেছে।

এ ধরনের টুর্নামেন্ট দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে SAFF (South Asian Football Federation)–এর অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে, যেখানে নারী ফুটসাল প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়।

সমর্থকদের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

এই সাফল্যের পর সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটসালে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও উন্নত প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি। ফেডারেশন যদি পরিকল্পিতভাবে এগোয়, তাহলে এই সাফল্য স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হওয়া একটি শুরু মাত্র। সামনে আরও বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে।

সর্বাধিক পঠিত