এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (29)
বিটিএস নতুন অ্যালবাম কামব্যাক: লাইভ নেটফ্লিক্সে ১৯০ দেশে সম্প্রচার হবে
Shikor Web Image (26)
মান্না বেঁচে থাকলে শাকিবের উত্থান: এতটা সহজ হতো না বললেন প্রবীণ অভিনেতা সোহেল রানা
Shikor Web Image (20)
ছেলের পর মেয়ের বাবা হলেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত অভিনেতা পলাশ
Shikor Web Image (51)
জামায়াতের আমিরের পোস্ট নিয়ে অভিনেত্রী শাওনের মন্তব্য
Shikor Web Image (48)
রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুম্বাইয়ে আতঙ্কে বলিউড

সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক: দিতে তুষারের অনুরোধ

সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আব্দুন নূর তুষারের সিরিয়াস পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক ও সমালোচনা।

২০২৬ সালের একুশে পদক ঘোষণা ঘিরে যখন সাহিত্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন সাবেক উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষার। ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বিষয়টিকে “সিরিয়াস” বলে উল্লেখ করেন এবং ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের নাম একুশে পদকের জন্য প্রস্তাব করেন। এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নতুন করে বিতর্ক।

একুশে পদক ২০২৬: প্রেক্ষাপট ও আলোচনা

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক প্রতি বছর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের একুশে পদক ঘোষণার পর দেখা যায়, এবার সাহিত্যে কোনো ব্যক্তি এই পুরস্কার পাননি—যা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

এই সামগ্রিক বিতর্কের মধ্যেই আব্দুন নূর তুষারের পোস্ট নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করে বলেন, সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার জন্য তিনি বিশেষ অনুরোধ ও আবেদন জানাচ্ছেন।

আব্দুন নূর তুষারের ফেসবুক পোস্ট কী বলেছেন

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আব্দুন নূর তুষার স্পষ্ট করে লেখেন, এটি কোনো ব্যঙ্গ বা হালকা মন্তব্য নয়, বরং একটি “সিরিয়াস পোস্ট”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শুনেছেন—সালমান মুক্তাদির প্রথম ইংরেজি অক্ষরে বাংলা বই লিখেছিলেন। এই বিষয়টিকেই তিনি একুশে পদকের প্রস্তাবনার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

তুষারের এই মন্তব্য অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে। কারণ, একুশে পদক সাধারণত ভাষা আন্দোলনের চেতনা, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে সুদীর্ঘ অবদান কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া হয়।

সালমান মুক্তাদির ও ভাষা বিতর্কের প্রসঙ্গ

ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকেন। তবে তার ফেসবুক ব্যবহারের একটি দিক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সাধারণত বাংলা ভাষায় লিখলেও বাংলা অক্ষর ব্যবহার করেন না; বরং ইংরেজি হরফে বাংলা বাক্য লেখেন।

এই অভ্যাসের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে একাধিকবার কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই এটিকে বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত স্টাইল বা প্রযুক্তিগত অভ্যাস বলে ব্যাখ্যা করেন।

আব্দুন নূর তুষারের পোস্টে ঠিক এই বিষয়টিই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখার প্রসঙ্গ টেনে এনে সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদকের জন্য প্রস্তাব করা সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক: সামাজিক প্রতিক্রিয়া

সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক দেওয়ার প্রস্তাব আসার পর ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে ব্যঙ্গাত্মক বলে মনে করেছেন, আবার অনেকে তুষারের বক্তব্যকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

সমালোচকদের একটি অংশের মতে, একুশে পদক ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের স্বীকৃতি। অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বর্তমান সময়ের ডিজিটাল সংস্কৃতি ও ভাষার পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই আলোচনা পুরোপুরি সামাজিক মাধ্যমকেন্দ্রিক এবং সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সালমান মুক্তাদিরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়নি।

একুশে পদক ২০২৬: কারা পাচ্ছেন

চলতি বছর একুশে পদক পাচ্ছেন মোট ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন কিংবদন্তি গায়ক, গিটারিস্ট ও সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চু এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও প্রযোজক ববিতা। সরকারিভাবে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তারাই ২০২৬ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন।

এই তালিকায় সালমান মুক্তাদিরের নাম নেই। তুষারের পোস্ট শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অনুরোধ ও মতামত হিসেবেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।

একুশে পদক সম্পর্কে বিস্তারিত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, সালমান মুক্তাদিরকে একুশে পদক বিতর্কসহ একুশে পদকের সামগ্রিক গুরুত্ব নিয়ে বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্য।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের একুশে পদক ঘোষণা ঘিরে আলোচনার মধ্যেই আব্দুন নূর তুষারের ফেসবুক পোস্ট নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সালমান মুক্তাদিরের ভাষা ব্যবহারের ধরন এবং সেই প্রেক্ষিতে একুশে পদকের প্রস্তাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি একটি ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়।

সর্বাধিক পঠিত