সালমান শাহ হত্যা মামলা আবারও আলোচনায়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে পুরো শোবিজ অঙ্গন। এই বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন চিত্রনায়ক সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জন। অভিনেতা ডনকে ঘিরেও তৈরি হয় রহস্য।
অক্টোবরের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে সামনে এলেন ডন। একটি গান শেয়ার করে তিনি জানালেন নিজের অবস্থান। এই পরিস্থিতিতে সালমান শাহ হত্যা মামলা ঘিরে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন, নতুন তথ্য ও প্রতিক্রিয়া।
সালমান শাহ হত্যা মামলা কেন আবার আলোচনায়
সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন করে আলোড়ন তোলে যখন ঢাকার আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন অপমৃত্যু হিসেবে চলা ঘটনাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এতে করে শোবিজ, আইন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই মামলা শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, এটি একটি আবেগ, একটি অসমাপ্ত প্রশ্ন।
২৯ বছর পর আদালতের যুগান্তকারী নির্দেশ
ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। তার ফলেই সালমান শাহ হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত হয়।
আদালতের মতে, আগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত ছিল।
মামলায় যাদের নাম রয়েছে
মামলার এজাহারে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
-
সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক
-
ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই
-
লতিফা হক লুসি
-
চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন
-
আরও কয়েকজন পরিচিত ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি
এই তালিকা প্রকাশের পরই সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন মাত্রা পায়।
কেন আলোচনায় ডন
মামলায় নাম ওঠার পর থেকেই ডনকে নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। অনেকেই দাবি করেন, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও ডন বারবার বলেন, তিনি নিজ বাসাতেই আছেন।
তবে লক্ষণীয় বিষয় ছিল—অক্টোবরের ৯ তারিখের পর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সক্রিয়তা ছিল না। এতে রহস্য আরও গভীর হয়।

অবশেষে ডনের ফেসবুকে ফেরার ঘটনা
দীর্ঘ নীরবতার পর ডন একটি গান পোস্ট করেন ফেসবুকে। ক্যাপশনে লেখেন—
“৫০ সব বন্ধু বান্ধবীদের জন্য উৎসর্গ করলাম।”
এই পোস্টের মাধ্যমেই ডন জানান দেন, তিনি গা ঢাকা দেননি। গানটি প্রশংসা পায় এবং অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
এই প্রতিক্রিয়ায় আবারও সামনে আসে সালমান শাহ হত্যা মামলা।
জনপ্রতিক্রিয়া ও শোবিজ অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
ডনের পোস্টের নিচে দেখা যায়—
-
সমর্থনের মন্তব্য
-
নিরপেক্ষ অবস্থানের আহ্বান
-
আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার পরামর্শ
অনেকেই মনে করছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা উচিত নয়। এই মনোভাব সালমান শাহ হত্যা মামলা-কে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সালমান শাহের মৃত্যু: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহের মরদেহ। সে সময় ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
এরপর দীর্ঘদিন মামলা একই অবস্থায় থাকে।
পিবিআই রিপোর্ট বনাম নীলা চৌধুরীর অভিযোগ
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এক পর্যায়ে প্রতিবেদনে জানায়, এটি আত্মহত্যা। তবে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
তার দাবি ছিল, এটি পরিকল্পিত হত্যা। তার এই অবস্থানের কারণেই আজ সালমান শাহ হত্যা মামলা আদালতের নির্দেশে পুনরায় তদন্তের পথে।
তদন্ত এখন কোন পথে
বর্তমানে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত চলবে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, নতুন প্রমাণ সংগ্রহ এবং পুরনো নথি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের শোবিজ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা।
সালমান শাহ হত্যা মামলা শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, এটি একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি। ২৯ বছর পর শুরু হওয়া এই নতুন অধ্যায় কতটা সত্য উন্মোচন করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডনের পুনরাবির্ভাব মামলার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা সময়ই বলবে।




