স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা, জার্সি ও স্পন্সর সংকটের মধ্যেও ভারতে পৌঁছাতে আশাবাদী ক্রিকেট স্কটল্যান্ড। বিস্তারিত পড়ুন।
শেষ মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া স্কটল্যান্ড দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে ভিসা সমস্যা, জার্সির অনিশ্চয়তা এবং স্পন্সর সংকট—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড।
বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) হঠাৎ করেই স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করায় প্রস্তুতির সময় খুবই সীমিত। এই অপ্রত্যাশিত সুযোগ যেমন আনন্দের, তেমনি বাস্তব প্রস্তুতিতে তৈরি হয়েছে একাধিক জটিলতা।
স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অংশ নিতে হলে ভিসা প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা মূলত তৈরি হয়েছে স্কোয়াডের কয়েকজন খেলোয়াড়ের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে।
বিশেষ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার সাফিয়ান শরিফসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের ভারতীয় ভিসা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠলেও ক্রিকেট স্কটল্যান্ড আশাবাদী।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের আশাবাদী অবস্থান

ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, ভিসা জটিলতা থাকলেও এটি দলের ভারত যাত্রায় বড় কোনো বিলম্ব ঘটাবে না। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী, তবে প্রস্তুতি থেমে নেই।
তার ভাষায়, সময় কম হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
জার্সি সংকট: বিশ্বকাপের আগে বড় অস্বস্তি
ভিসা সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো—বিশ্বকাপের জন্য এখনো স্কটল্যান্ড দলের নতুন জার্সি প্রস্তুত হয়নি। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের আগে নতুন কিট উন্মোচন করা হয়, যা দলীয় আত্মবিশ্বাস ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সময়ের অভাবে নতুন জার্সি হাতে না পেলে নিয়মিত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের জার্সিতেই মাঠে নামতে পারে দলটি। লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, নতুন কিট পেলে ভালো, না পেলেও খেলায় কোনো বাধা হবে না।
নেই জার্সি স্পন্সর: আর্থিক দুশ্চিন্তা
বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো—দলের কোনো জার্সি স্পন্সর না থাকা। সাধারণত স্পন্সর চুক্তি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টে ঢোকায় স্কটল্যান্ডের হাতে সময় আছে মাত্র সাত দিন।
এই সংকট স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতার পাশাপাশি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবুও ক্রিকেট স্কটল্যান্ড আশাবাদী, দ্রুত একজন বড় স্পন্সর যুক্ত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ বাদ পড়ায় স্কটল্যান্ডের সুযোগ
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর পর আইসিসি স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বাংলাদেশ ম্যাচগুলো ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও আইসিসি সূচি পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বাংলাদেশ না খেলায় টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং (১৪তম) থাকায় স্কটল্যান্ড সুযোগ পায়।
খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতি
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তার ফোন পাওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। হোটেল বুকিং, ভ্রমণ পরিকল্পনা, ভিসা আবেদন—সবকিছুই করতে হচ্ছে একসঙ্গে।
এই চাপের মাঝেও স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা সামাল দিতে আত্মবিশ্বাসী লিন্ডব্লেড। তার মতে, এই সুযোগ স্কটিশ ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক।
উদ্বোধনী ম্যাচের অপেক্ষা
বিশ্বকাপে মূলত বাংলাদেশের নির্ধারিত সূচিই পেয়েছে স্কটল্যান্ড। উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।
এখন পর্যন্ত সেই ম্যাচ পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প পথ খোঁজা হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্কটল্যান্ডের জন্য বড় সুযোগ
সব সংকট সত্ত্বেও এই বিশ্বকাপ স্কটল্যান্ডের জন্য বিশাল সুযোগ। বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করার মঞ্চ এটি।
স্কটল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিসা জটিলতা সাময়িক বাধা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি স্কটিশ ক্রিকেটের উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিসির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আইসিসি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। প্রয়োজন হলে ভিসা ও লজিস্টিক সহায়তায় আইসিসি এগিয়ে আসবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবেই এই পরিস্থিতি দেখছে অনেক বিশ্লেষক।
শিকড় থেকে বিশ্বমঞ্চে
স্কটল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশের জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চে সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। তাই এই অংশগ্রহণ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ভিসা সমস্যা, জার্সি ও স্পন্সর সংকট পেরিয়ে মাঠে নামতে পারলেই সেটাই হবে বড় সাফল্য।




