নির্বাচনে পেশাদারি আচরণের নির্দেশ সেনাপ্রধানের, পেশাদারি ও নিরপেক্ষ আচরণের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য বিস্তারিত জানুন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সেনাবাহিনী প্রধান নির্বাচন নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি পেশাদারি, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গতকাল পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শনকালে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সেনাপ্রধানের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আসন্ন নির্বাচনে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ মিশনের আওতায় মোতায়েন সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
নির্বাচনের সময় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

সেনাবাহিনী প্রধানের নির্বাচনে পেশাদারি আচরণের নির্দেশনা মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে:
-
নিরপেক্ষ আচরণ: সেনা সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন না।
-
শৃঙ্খলা বজায় রাখা: সমস্ত সেনা কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
-
ধৈর্যপূর্ণ আচরণ: ভোটার ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ধৈর্য সহকারে আচরণ করতে হবে।
-
নাগরিকবান্ধব সেবা: জনগণকে সহায়তা প্রদানে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
-
মৌলিক আইন অক্ষুণ্ণ রাখা: সকল আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।
-
অন্তর্বাহিনী সমন্বয়: বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
-
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ: জরুরি অবস্থায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
এই দিকগুলো নিশ্চিত করতে সেনা প্রধান পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট জোনাল কমান্ডার এবং বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শন
সেনাপ্রধান পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও অনুরূপ সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময়কালে আলোচিত বিষয়গুলো হলো—
-
আন্তপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়
-
সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
-
শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা
সেনাপ্রধানের নির্দেশনার প্রভাব
সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশনা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। বেসামরিক প্রশাসন ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শান্তি বজায় রাখা সহজ হবে।
বাহ্যিক সূত্র অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনা প্রধানের এই পদক্ষেপকে ‘উদাহরণমূলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Bangladesh Post News).
সেনাবাহিনী প্রধান নির্বাচন নির্দেশনা অনুসরণ করলে ভোটাররা সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন। পেশাদারি, ধৈর্য ও সমন্বয় মূল চাবিকাঠি। সকল প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একত্রে কাজ করলে বাংলাদেশের নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে।




