এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-01T154337.241
জাহের আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী?
Shikor Web Image - 2026-03-01T153044.792
দেশ ছেড়ে কানাডায় স্থায়ী, তবু ছাড়েননি অভিনয়
Shikor Web Image (30)
আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি লাগেজও আটকানো হয়নি: মেহজাবীন চৌধুরী
Shikor Web Image (39)
বঙ্গবিভূষণ পেলেন নচিকেতা বঙ্গভূষণ পরমব্রত
Shikor Web Image (36)
১৪ বোতল মদসহ আটকের ঘটনায় মুখ খুললেন মেহজাবীন

শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয়ে টেনে আনা বন্ধ হোক: ববিতা

শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয়ে টেনে আনা বন্ধ হোক, ববিতা জানালেন নতুন সরকারের ৫ গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা।

চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রখ্যাত শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা নতুন সরকারের প্রতি তার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। ববিতা বলেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয় থেকে আলাদা রাখা তাদের মর্যাদা ও দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে। তিনি মনে করেন, দর্শকের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর শক্তি, যা রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী।

ববিতার প্রথম প্রত্যাশা: শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয় থেকে দূরে রাখা

ববিতা স্পষ্ট করেছেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক জঙ্গলে টেনে আনা উচিত নয়। তিনি বলেন,

“আমি বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে শিল্পীর মর্যাদা বাড়ে, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। তাই শিল্পীদের জন্য নিরপেক্ষ অবস্থানই সম্মানজনক ও দীর্ঘস্থায়ী।”

নতুন সরকারের কাছে তার আহ্বান, শিল্পীদের রাজনৈতিক বলয় থেকে সংযমের সঙ্গে দূরে রাখুন। একই সঙ্গে, শিল্পীরাও যেন ব্যক্তিগত সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন।

চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন

দ্বিতীয় প্রত্যাশা হিসেবে ববিতা উল্লেখ করেছেন চলচ্চিত্রশিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি বলেন,

“অনেক জেলাই আজও প্রেক্ষাগৃহশূন্য। সারা দেশে আধুনিক ও মানসম্মত সিনেমা হল নির্মাণ বা পুনরুদ্ধারে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। মফস্‌সল শহরগুলোতে আবারও প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক সংস্কৃতির জাগরণ ঘটুক।”

এতে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সিনেমা দেখতে পারবেন এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিসর সমৃদ্ধ হবে।

সরকারি অনুদান ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বচ্ছতা

ববিতার তৃতীয় আহ্বান, সরকারি অনুদানের বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়, যোগ্য নির্মাতা ও গল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

“এতে প্রকৃত মেধাবীরা কাজের সুযোগ পাবেন, দেশের চলচ্চিত্রশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও স্বচ্ছতা দরকার। বিচারকের দেওয়া নম্বর বদলে বা পছন্দের কাউকে পুরস্কার দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।”

এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও প্রকৃত শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতি বিকশিত হবে।

শিল্পী ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

ববিতা আরও বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন মর্যাদায় উন্নীত করা হোক যেখানে শিল্পী দল-মত-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারেন। শিল্পীর কণ্ঠস্বর সকলের জন্য, কোনো দলের নয়। শিল্প যেন হয় ঐক্যের শক্তি, বিভেদের নয়।

“নতুন সরকার যেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সঠিক পদক্ষেপ নেন, সেটাই আমার প্রত্যাশা।”

শিল্পীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা: সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ

শিল্পীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে ন্যায্য বিচার ও প্রাপ্য সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ববিতার বার্তা স্পষ্ট: শিল্পী ও সংস্কৃতির স্বার্থে রাজনীতি থেকে আলাদা থাকা উচিত

ফরিদা আক্তার ববিতার প্রত্যাশাগুলো নতুন সরকারের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা। স্বচ্ছ নীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্পীর স্বাধীনতা—এই তিনটি মূল স্তম্ভের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমৃদ্ধ হবে।

শিল্পীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হলে, চলচ্চিত্র, নাট্য, সংগীত ও টেলিভিশন অঙ্গন আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য হবে।

সর্বাধিক পঠিত