সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া: নতুন ব্যাংকের যাত্রা শুরু
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো দেশ। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন সরকারি ইসলামী ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া–এর দায়িত্ব গ্রহণ ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট ও আর্থিক দুর্বলতায় ভুগছিল।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃপুন তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং—
-
শেয়ারবাজারে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়
-
প্রায় সব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) ঋণাত্মক হয়ে পড়ে
-
আমানতকারীদের আস্থা দুর্বল হতে থাকে
এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সরকারি ইসলামী ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলাফল হলো—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া কে?
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব। দীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতিনির্ধারণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত লাইসেন্স অনুমোদনের পরপরই তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ড. আইয়ুব মিয়ার অভিজ্ঞতা নতুন ব্যাংকের সুশাসন ও কাঠামোগত সংস্কারে সহায়ক হবে।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়েছে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনে যে পাঁচটি ব্যাংক যুক্ত হয়েছে, সেগুলো হলো—
-
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
-
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
-
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
-
এক্সিম ব্যাংক
-
ইউনিয়ন ব্যাংক
এই পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত সম্পদ, দায় ও আমানত একত্র করে নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নতুন ব্যাংকের মূলধন ও অর্থায়ন কাঠামো
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য বড় অঙ্কের মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে—
-
মোট Paid-up Capital: ৩৫,০০০ কোটি টাকা
-
সরকারি বিনিয়োগ: ২০,০০০ কোটি টাকা
-
আমানতকারীদের শেয়ার: ১৫,০০০ কোটি টাকা
-
অনুমোদিত মূলধন: ৪০,০০০ কোটি টাকা
এই অর্থনৈতিক কাঠামো নতুন ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করবে। এর মাধ্যমে—
-
আমানত ও ঋণ কার্যক্রম চালু হবে
-
ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হবে
-
গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া এর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ব্যাংকিং খাতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একীভূত উদ্যোগের ফলে—
✅ দুর্বল ব্যাংকের ঝুঁকি কমবে
✅ সরকারি ইসলামী ব্যাংক খাতে আস্থা বাড়বে
✅ আমানতকারীরা নিরাপত্তা অনুভব করবে
✅ শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে
সব মিলিয়ে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া–এর নেতৃত্বে নতুন এই ব্যাংকটি দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী মূলধন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নজরদারির ফলে ভবিষ্যতে এই ব্যাংক আর্থিক স্থিতিশীলতার উদাহরণ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশাই করছে সংশ্লিষ্ট মহল।




