এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
এপস্টেইন ফাইলস: যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত
Shikor Web Image (21)
ফিলিপিন্সে মেয়রের গাড়িতে রকেট হামলা: চতুর্থবার প্রাণে বাঁচলেন শরিফ আগুয়াকের মেয়র
Shikor Web Image (18)
মায়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়ার মৃত্যুদণ্ড: ১১ সদস্যকে শাস্তি দিল চীন
Shikor Web Image (15)
থাইল্যান্ডে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২ পাইলট নিহত
Shikor Web Image - 2026-01-28T140227.923
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত

দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বৃদ্ধি: ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত কী প্রভাব ফেলবে? জানুন এই ৭টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এর মধ্যে গাড়ি, কাঠ ও ওষুধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানে এই শুল্কের হার ১৫ শতাংশ। ট্রাম্পের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত ঠিকমতো মানছে না।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে না।” যদিও শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে তারা যদি চুক্তি ঠিকমতো না মানে, তাহলে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তাদের পূর্বেই কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। কানাডায় থাকা বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছেছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান হয়েছিল। অক্টোবর মাসে ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের বৈঠকের পর চুক্তি চূড়ান্ত হয়। চুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর কথা বলা হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক রাখবে। বিশেষভাবে, দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন হুমকি কার্যকর হলে সেই সিদ্ধান্ত উল্টে যাবে।

শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব

দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানির ২৭ শতাংশ আসে গাড়ি শিল্প থেকে। দেশটির মোট গাড়ি রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। শুল্ক বাড়লে দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্য জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ শতাংশ শুল্কের চুক্তি করেছে।

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শুল্ক বাড়ানোর নোটিশ দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই হুমকি সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের অন্যান্য বাণিজ্যিক হুমকির অংশ।

ট্রাম্পের অন্যান্য বাণিজ্যিক হুমকি

ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডাকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে সীমান্ত দিয়ে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যতক্ষণ না তারা গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে রাজি হয়। পরে তিনি সেই হুমকি থেকে সরে আসেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বৃদ্ধি শুধুমাত্র দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককেই প্রভাবিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও তা প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও পর্যালোচনা

দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও সংস্থা WTO-এর নিয়মের সঙ্গে মেলানো গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক বৃদ্ধি হলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, এটি অন্যান্য এশীয় দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য

দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কিম জুং-কোয়ান মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নতুন সমাধানের পথ খুঁজবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুসংহত হবে এবং শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি কমানো যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বৃদ্ধি শুধু দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিয়োগের উপরও প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক হুমকির অংশ হলেও এর প্রভাব অর্থনীতি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত