বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর। তবে দেশের মাটিতে ফিরে আসার জন্য তিনি এখনও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাছে ‘ট্রাভেল পাস’ আবেদন করেননি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মতামতের ওপর নির্ভর করছে তার দেশে ফেরার সময়সূচি।
তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর: ট্রাভেল পাস কেন এখনও চাননি?
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর পুরোপুরি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা যখন সিদ্ধান্ত দেবেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া যাবে, তখন তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেবেন।
তবে চিকিৎসকেরা যদি মনে করেন যে দীর্ঘ দূরত্বের বিমানযাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে, তখন তারেক রহমান স্বল্প দূরত্বের দেশ যেমন সিঙ্গাপুরে যেতে প্রাধান্য দেবেন। লন্ডন এখনও প্রধান অগ্রাধিকার।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং তার প্রভাব
গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ দিন ধরে তিনি আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া গত বছর লন্ডনে গিয়েছিলেন, যেখানে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফেরেন।
তাদের পরিবার জানিয়েছে যে, বিদেশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মতামতের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে তারেকের দেশে ফেরার সময়সূচি।
ট্রাভেল পাস প্রসেস: কীভাবে দ্রুত পেতে পারেন তারেক রহমান?
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর চাইলে কোনো বিধিনিষেধ নেই। ট্রাভেল পাস একদিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব। পাসপোর্ট না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ওয়ান টাইম পাস দেওয়া হয়।
এতে সহজেই তারেক রহমান পরবর্তী দিনে প্লেনে উঠতে সক্ষম হবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত করার প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে মুক্তির পর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যেই থাকছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাওয়ার পর দেশে ফেরার আলোচনাও শুরু হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
দেশে ফেরার সম্ভাবনা ও সামাজিক প্রভাব
দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ও জনমনেরও আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু। তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর দেশের রাজনৈতিক চিত্রে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষিতে শাসন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আলোচনা করছেন তার দেশে ফেরা কবে এবং কিভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে।
চূড়ান্তভাবে বলা যায়, তারেক রহমান দেশে ফেরার খবর এখন পুরোপুরি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ট্রাভেল পাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেশে ফিরবেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে।




