এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (43)
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত: যে কারণে হিমশিম খাচ্ছেন
Shikor Web Image (56)
লন্ডন মেয়র নির্বাচনে মুসলিম কার্ড
Shikor Web Image (53)
ভেনেজুয়েলা ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ
Shikor Web Image (50)
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের হুঁশিয়ারি
Shikor Web Image (21)
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো সংকট: ট্রাম্পের কাছে অসহায় ইউরোপ

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক। নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পের ক্রেন ভেঙে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। জানুন সর্বশেষ তথ্য।

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হওয়ার খবর দেশটির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেললাইন প্রকল্পের ক্রেন ভেঙে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক একটি সকাল রূপ নেয় মৃত্যু ও আতঙ্কের বিভীষিকায়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবোন রাতচাথানি প্রদেশগামী ট্রেনটি দুর্ঘটনার সময় ব্যস্ত একটি রেলপথ দিয়ে অতিক্রম করছিল।

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ নিহত: কীভাবে ঘটল ভয়াবহ ঘটনা?

থাই কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি একটি নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেললাইন প্রকল্পের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ওপর থেকে একটি বিশাল ক্রেন ভেঙে পড়ে। ক্রেনটির ভারী ধাতব অংশ সরাসরি ট্রেনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বগিতে আঘাত হানে।

এই সংঘর্ষের ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য আগুনও জ্বলে ওঠে। যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় চরম আতঙ্ক। অনেকেই আহত অবস্থায় বগির ভেতর আটকা পড়েন।

নিহত ও আহতের সংখ্যা কেন বাড়তে পারে?

প্রথমদিকে থাই পুলিশ নিহতের সংখ্যা মাত্র চারজন বলে জানিয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১২ এবং পরে ২২ জনে পৌঁছায়।

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ নিহত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রেনটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন?

থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাতচাকিতপ্রাকর্ন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন,

“ক্রেনের আঘাতে ট্রেনের তিনটি বগির মধ্যে দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই এই দুটি বগির যাত্রী।”

এই মন্তব্য দুর্ঘটনার ভয়াবহতার মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লোমহর্ষক মুহূর্ত

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিত্র ইনত্রপানিয়া (৫৪) জানান,
সকাল প্রায় ৯টার দিকে তিনি হঠাৎ ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। এরপর পরপর দুটি বিস্ফোরণের আওয়াজ আসে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি বিশাল ক্রেন যাত্রীবাহী ট্রেনটির ওপর আছড়ে পড়েছে। ক্রেনের ধাতব অংশ ট্রেনের দ্বিতীয় বগির মাঝখানে আঘাত করে সেটিকে প্রায় দ্বিখণ্ডিত করে দেয়।

আল জাজিরার সাংবাদিক কী জানালেন?

ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক টনি চেং জানান,
ট্রেনটি যখন নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেললাইন প্রকল্পের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ওপর থেকে ক্রেনটি ভেঙে পড়ে।

তার ভাষায়,

“সংঘর্ষের পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময় আগুন জ্বলে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।”

আল জাজিরার পূর্ণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রেলপথটি উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মাণাধীন রেল প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়া রেলপথটি একই সঙ্গে চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের অংশ। এই প্রকল্পটির কাজ প্রায় এক দশক ধরে চলমান।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নির্মাণাধীন কংক্রিট স্তম্ভের ওপর কাজ করা ক্রেনটি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। তবে কী কারণে ক্রেনটি ভেঙে পড়ল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তদন্তের নির্দেশ ও উদ্ধার তৎপরতা

থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে রক্তদান ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ নিহত: নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এই দুর্ঘটনা থাইল্যান্ডের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান রেললাইনের ওপর ভারী নির্মাণকাজ পরিচালনার সময় আরও কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োজন।

বিশেষ করে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সময় নির্মাণ কাজ চালু রাখার বিষয়টি এখন নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শোক

থাইল্যান্ড ট্রেন দুর্ঘটনায় ২২ নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত রেল নেটওয়ার্কে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

সর্বাধিক পঠিত