ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বাতিল করেছে ৮৫ হাজারের বেশি অভিবাসীর ভিসা। শিক্ষার্থীসহ সকলকে লক্ষ্যবস্তু করে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে, জানুন বিস্তারিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাম্পের প্রশাসন চলতি বছর মাত্র এক বছরের মধ্যে অন্তত ৮৫ হাজারের বেশি অভিবাসীর ভিসা বাতিল করেছে। এই তথ্য গতকাল মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশ করেছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে এই ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্মকর্তার মতে, এটি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বাতিল হওয়া ভিসার প্রকারভেদ
প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিলের কারণ ছিল মাদক বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি, আক্রমণ ইত্যাদি অপরাধ। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যাদের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষে সক্রিয়তা বা রাজনৈতিক মতামতের কারণে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
২৯ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যকলাপকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে এই শিক্ষার্থীদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষ করে রঞ্জনি শ্রীনিবাসন, রুমেইসা ওজতুর্ক এবং মাহমুদ খলিলের মতো শিক্ষার্থীরা যারা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা ছিলেন, তারা এই লক্ষ্যবস্তুতা থেকে মুক্ত হননি। সমালোচকরা মনে করেন, নিজের মতামত প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন।
শিক্ষার্থী ভিসার বাতিলের প্রভাব
গত আগস্ট মাসে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিল, তারা ৬ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। বাতিল হওয়া ভিসার দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীদের মার্কিন আইন লঙ্ঘনের কারণে। অভিযোগের মধ্যে ছিল:
-
মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার পরেও অবস্থান
-
চুরি ও আক্রমণ
-
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো
-
সন্ত্রাসবাদের সমর্থন
এই প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এবং অভিবাসীরা ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি।
নতুন কঠোর নীতি ও রাজনৈতিক যাচাই
জুন মাস থেকে, সম্ভাব্য ছাত্র ভিসা আবেদনকারীরা তাদের রাজনৈতিক মতামত যাচাই-এর ক্ষেত্রে কঠোরতার সম্মুখীন হচ্ছেন। মার্কিন সরকার পরিকল্পনা করছে:
-
H1-B ভিসা আবেদনকারীদের আরও বেশি যাচাই
-
শরণার্থী হিসেবে আগতদের পুনঃসাক্ষাৎকার
-
কিছু দেশের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী লক্ষ্যবস্তু নীতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার মূল এজেন্ডাগুলোর একটি ছিল অভিবাসীদের লক্ষ্য করা। তিনি মুসলিম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেন এবং শরণার্থীদের প্রবেশাধিকার কমিয়ে দেন। এছাড়া আফগান এবং সিরিয়ান নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (TPS) অপসারণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
এই নীতির প্রভাবে মার্কিন অভিবাসী ব্যবস্থা কঠোর এবং অভিবাসীরা আতঙ্কিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সহ, অনেকেই তাদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
শিক্ষার্থী ও অভিবাসীর দৃষ্টিভঙ্গি
ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়া শুধু আইন লঙ্ঘনকারীদের নয়, অনেক নির্দোষ শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীকেও প্রভাবিত করেছে। অনেকে তাদের রাজনৈতিক মতামতের কারণে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের উপর এমন চাপ দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শিক্ষা মানকে প্রভাবিত করতে পারে।




