ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশত্যাগের সময়, ২০২৫ সালের দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে মূল অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে।
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে দেশত্যাগের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো (নাবু) রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। পদত্যাগের পর তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ট্রেনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীর কোথায় যাওয়ার চেষ্টা ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৫ সালের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পেছনের ঘটনা

২০২৫ সালে জ্বালানি খাতে অর্থপাচারের একটি বড় চক্র উন্মোচিত হওয়ার পর গালুশচেঙ্কোসহ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।
ইউক্রেনের বিশেষ দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর দপ্তর (এসএপিও) জানিয়েছে, কথিত ১০০ মিলিয়ন ডলারের কেলেঙ্কারির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ব্যবসায়ী তাইমুর মিনডিচ। তদন্তে বলা হয়েছে, গালুশচেঙ্কো জ্বালানি খাতে অবৈধ অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থাপনায় মিনডিচকে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া, এনার্জোট্যামের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের চুক্তি বাতিল বা বিল পরিশোধে বিলম্ব এড়াতে ১০–১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করা হতো।
গালুশচেঙ্কোর সরকারি দায়িত্ব ও পদত্যাগ
গালুশচেঙ্কো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রী ছিলেন। নভেম্বরে জেলেনস্কি তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এর আগে তিন বছর তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার উত্তরসূরি স্বিতলানা হ্রিঞ্চুকও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকায় পদত্যাগ করেছিলেন।
নাবু এখনও গালুশচেঙ্কোর আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি, তবে জানিয়েছেন, সময়মতো আপডেট জানানো হবে।
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার: “মিডাস” মামলার অন্তর্ভুক্তি
নাবু জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে গত বছরের জ্বালানিমন্ত্রীর পদ থেকে তার পদত্যাগ এবং মামলার প্রেক্ষাপট বিষয়টি নিশ্চিত করছে।
রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষীরা তাকে কিয়েভে নিয়ে যাচ্ছেন আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
এই ঘটনায় ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেশের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়া এবং বৃহৎ অর্থপাচারের চক্র উন্মোচন দেশের জন্য নাটকীয় ও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।




