বিভক্তির নয় ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান—বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে দেওয়া ৫ দফা শক্তিশালী উন্নয়ন ও ইনসাফের অঙ্গীকার।
ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির—এই প্রত্যয় সামনে রেখেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় টানা নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য, ইনসাফ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য।
গতকাল দুপুরে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাতা দিয়ে অপমান করা নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের দেশের সম্পদে পরিণত করতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির এই রাজনৈতিক অবস্থান কেবল স্লোগান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।
ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির: বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা
ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির—এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক বিভাজনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,
“আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে মানুষ চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হবে।”
তার ভাষায়, দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কোনো শক্তির কাছে বন্ধক রাখা হবে না। আল্লাহ যতদিন তৌফিক দেবেন, ততদিন এই আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণাসহ বড় উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

বগুড়ার জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, দল ক্ষমতায় গেলে—
-
বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে
-
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করা হবে
-
একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন
-
আলাদা মাদ্রাসা বোর্ড গঠন
-
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেললাইন স্থাপন
-
বগুড়া বিমানবন্দর সংস্কার ও ফ্লাইট চালু
এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্যে আবারও প্রতিফলিত হয়—ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির এই রাজনৈতিক দর্শন।
বেকার যুবকদের শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বেকার যুবকদের মিছিলে দেখতে চায় না। বরং তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায়। এজন্য—
-
কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ
-
বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থান
-
বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার প্রসার
এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত
এর আগে সকালে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির। পরে শহীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন,
“আবু সাঈদরা জীবন দিয়ে দেশের আমানত রেখে গেছেন। আমরাও জীবন দিয়ে সেই আমানত রক্ষা করব।”
এ বক্তব্যেও ঐক্যের বাংলাদেশ চাই জামায়াত আমির—এই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মানবিক দিক স্পষ্ট হয়।
গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা
রংপুর থেকে গাইবান্ধায় গিয়ে ১০-দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীত সরকারগুলোর অবহেলায় নর্থবেঙ্গল পিছিয়ে পড়েছে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে—
-
মরা নদীগুলো পুনরুজ্জীবন
-
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি জোরদার
-
গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন
কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উত্তরবঙ্গ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জে শিল্প পুনর্জাগরণের অঙ্গীকার
সিরাজগঞ্জের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময়ের সমৃদ্ধ শিল্পনগর সিরাজগঞ্জকে আবারও ফিরিয়ে আনা হবে।
তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—
-
তাঁতশিল্প পুনরায় চালু
-
বন্ধ শিল্পকারখানা সচল
-
গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন
এই শিল্পভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং অর্থনীতিতে গতি আনবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতীক বিতরণ ও প্রার্থীদের পরিচয়
বগুড়া, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে।




