যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ—এই ঘোষণাটি ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল নয়, বরং বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। Shikor TV Canada এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছে, কেন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ করা হলো, কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সামনে কী হতে পারে।
কেন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ করা হলো
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। মার্কিন সরকার মনে করছে, আশ্রয়প্রত্যাশীদের বিষয়ে আরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি আবেদনকারীর তথ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই না হবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রশ্নে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র।
ইউএসসিআইএস কী বলছে
ইউএস সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (USCIS)-এর পরিচালক এক বিবৃতিতে জানান, কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—
“পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
তবে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রশাসনিক কাজ চলমান থাকবে।
সিদ্ধান্তটি কাদের জন্য কার্যকর
এই সিদ্ধান্ত—
-
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোসহ
-
ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা
-
সব দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য
যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বাস্তবিক অর্থে এটি একটি গ্লোবাল সাসপেনশন।
আবেদন প্রক্রিয়া কি পুরোপুরি বন্ধ?
না, এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
✔ আবেদন জমা দেওয়া যাবে
✔ নথি যাচাই-বাছাই চলবে
✖ কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত
অর্থাৎ, ফাইলগুলো জমে থাকবে, কিন্তু অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান—কোনোটিই দেওয়া হবে না।
এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ থাকাকে অনেকেই “নীরব স্থবিরতা” হিসেবে বর্ণনা করছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই—
-
জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা
-
আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংগঠন
-
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা
তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত, যা এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প—
-
অবৈধ অভিবাসনে কড়াকড়ি
-
ব্যাপক ডিপোর্টেশন অভিযান
-
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ করাকে অনেকেই তার দীর্ঘদিনের অভিবাসন-বিরোধী নীতিরই অংশ হিসেবে দেখছেন।
প্রবাসীদের জন্য কী বার্তা
যারা বর্তমানে—
-
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অপেক্ষায়
-
সীমান্তে বা ডিটেনশন সেন্টারে
-
অস্থায়ী স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন
তাদের জন্য এটি একটি চরম অনিশ্চয়তার সময়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
✅ আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন
✅ ডকুমেন্ট আপডেট রাখুন
✅ সরকারি নোটিশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই সিদ্ধান্ত কতদিন কার্যকর থাকবে, আইনি চ্যালেঞ্জে কতটা টিকবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Shikor TV Canada নিয়মিতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সর্বশেষ আপডেট আপনাদের জানাতে থাকবে।




