প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দিনভর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সৌরবিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপণ ও কার্ড বিতরণে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনব্যাপী ফেনী সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর। সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড–সংক্রান্ত কর্মসূচি রয়েছে তাঁর সফরসূচিতে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৮টায় তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এরপর দিনভর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষে বিকেলে ফেনী ত্যাগ করে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে যেসব কর্মসূচি রয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কর্মসূচিতে স্থানীয় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবেশ এবং সামাজিক সহায়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি কার্যক্রম রাখা হয়েছে। সফরের প্রথম বড় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর।
এরপর সফরের কর্মসূচি পরশুরাম থেকে ফুলগাজীর দিকে এগোবে। সেখানে বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন কার্ড ও সম্মানি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের শুরুতেই গুরুত্ব পাচ্ছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন। দুপুর সাড়ে ১২টায় পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান।
সফরসূচিতে প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে দিনের প্রথম অংশের মূল কর্মসূচি পরশুরামেই সম্পন্ন হবে।
এই কর্মসূচির পর প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হবেন।
ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর দেড়টায় বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দিনব্যাপী সফরের এই অংশে পরিবেশ–সম্পর্কিত একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর উদ্দেশে যাবেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টায় সেখানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা।
রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ
ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
সোর্স অনুযায়ী, ফেনীর তিনটি উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময় এই রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অর্থাৎ সফরের কর্মসূচিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও স্থান পেয়েছে।
বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ
ফুলগাজী সফরের শেষ পর্যায়ে বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সেখানে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড–সংক্রান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদানের কর্মসূচিও রয়েছে।
দিনের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে এটি একটি বিস্তৃত সামাজিক সহায়তা ও সম্মানি প্রদান–সংক্রান্ত আয়োজন। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের শেষ দিকের কর্মসূচিগুলো ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠকেন্দ্রিক হবে।
সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষ করে বিকেল ৫টায় সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
সফরসূচি অনুযায়ী, রাতে প্রায় ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। এভাবেই সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সূচি
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময়সূচি অনুযায়ী দিনের কর্মসূচিগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় বাসভবন থেকে যাত্রা দিয়ে সফর শুরু হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় পরশুরামে প্রথম প্রধান কর্মসূচি রয়েছে।
এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ফুলগাজীর উদ্দেশে যাত্রা, দেড়টায় বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ, ২টায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং বিকেল ৩টায় সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সবশেষে বিকেল ৫টায় ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা এবং রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।
সফরের কর্মসূচিতে উন্নয়ন ও জনসেবা
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কর্মসূচিগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দিনের আয়োজনের মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ, সৌরবিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপণ এবং সামাজিক সহায়তা–সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম রাখা হয়েছে।
পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধনের পর ফুলগাজীতে পরিবেশ ও সৌরবিদ্যুৎ–সম্পর্কিত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। দিনের শেষভাগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ কারণে সফরের কর্মসূচিতে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবেশ এবং সামাজিক সহায়তার একাধিক ক্ষেত্র একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর নিয়ে আরও খবর
১ অক্টোবরের প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দিনভর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড–সংক্রান্ত অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে দিনটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবে। সফর শেষে বিকেলে ফেনী ত্যাগ করে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।





