এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (19)
পাইপলাইনে হামলার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সৌদি, প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে লাখ লাখ ব্যারেল তেল
News Photocard (16)
যুক্তরাজ্যে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
News Photocard (7)
‘অজান্তে সত্য প্রকাশ’, ভারতের উত্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভয় : রুশ দূত
News Photocard (33)
হরমুজ প্রণালির নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
News Photocard (15)
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩ ছবি ফাঁস করল এআই এজেন্টরা

ইরানি প্রতিনিধিদলকে কি যুক্তরাষ্ট্র ‘অবিলম্বে’ নিউ ইয়র্ক ছাড়তে বলেছিল?

ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। জানুন পুরো ঘটনা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অবিলম্বে’ শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। ইরান বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক ছেড়েছে এবং বিষয়টি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। সোমবার দিনের শুরুতে আলোচনায় অগ্রগতির আশা থাকলেও পরে তা অচলাবস্থায় পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ—যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য

মার্কিন কর্মকর্তা ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশন ইরানের মিশনকে মার্কো রুবিওর নির্দেশের কথা জানায়। সেখানে আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ‘অবিলম্বে’ ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদল তাদের অবস্থানের নির্ধারিত সময় পার করে ফেলেছিল। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের নিউ ইয়র্ক ছাড়ার সময় হয়েছিল বলে মার্কিন পক্ষের ব্যাখ্যা।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে নিউ ইয়র্ক থেকে দোহাগামী একটি বিমানে রওনা হয়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে ইরানের বক্তব্য এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি ভিন্ন।

ইরানের পাল্টা বক্তব্য কী?

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কার বা অবিলম্বে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানি মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদল সোমবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করে। তাদের এই সফর ও ফেরার সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।

অর্থাৎ ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার কারণে তারা শহর ত্যাগ করেনি; বরং আগে থেকেই নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা নিউ ইয়র্ক ছেড়েছে।

ইরানি মিশন আরও অভিযোগ করেছে, কোনো সাফল্য অর্জন করতে না পেরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখন ‘ভিত্তিহীন ও মূল্যহীন’ খবর প্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ঘটনাবিবরণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর রুবিও প্রতিনিধিদলকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে একই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলো কীভাবে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির আশা করেছিল। কিন্তু দিনের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এর আগেও নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতেও কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ কারণে ইরানি প্রতিনিধিদলের নিউ ইয়র্ক ত্যাগের ঘটনাটি শুধু একটি সফর শেষ হওয়ার বিষয় হিসেবে নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে।

আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল

ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার প্রক্রিয়া চলছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতায় ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর ফলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনৈতিক অবস্থানও পুরো পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবরটি আসে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর। তবে ইরানি মিশন বলছে, তাদের ফেরার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

নির্ধারিত সফর নাকি মার্কিন নির্দেশ?

পুরো ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরানি প্রতিনিধিদল কি স্বাভাবিক পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক ছেড়েছিল, নাকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর তাদের দ্রুত চলে যেতে হয়েছিল?

ইরানের বক্তব্যে প্রথম ব্যাখ্যাটি সমর্থন করা হয়েছে। তাদের দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিনিধিদলের ফেরার সময় জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের নির্ধারিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আলোচনার অচলাবস্থার পর মার্কো রুবিও চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই পক্ষই প্রতিনিধিদলের নিউ ইয়র্ক ত্যাগের ঘটনা অস্বীকার করছে না। মূল বিরোধ হলো—কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে ইরানি প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্ক ছেড়েছিল।

কূটনৈতিক আলোচনায় এর তাৎপর্য

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সেই সময় নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলায় প্রতিনিধিদলের অবস্থান এবং তাদের ফেরার সময় স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।

ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—মার্কিন কর্মকর্তার এই দাবি সত্য হলে তা আলোচনার অচলাবস্থার একটি দৃশ্যমান দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটিকে এমনভাবে দেখার কারণ নেই, কারণ তাদের ফেরার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

সুতরাং, বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্ক থেকে দোহার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই প্রস্থান মার্কিন নির্দেশের ফল ছিল, নাকি পূর্বনির্ধারিত সফরসূচির অংশ—এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত

আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং একটি সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন।

এর ফলে ইরানি প্রতিনিধিদলের নিউ ইয়র্ক ত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

ইরানি প্রতিনিধিদলের নিউ ইয়র্ক ত্যাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর মার্কো রুবিও প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ইরান বলছে, প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক ছেড়েছে এবং সেই সময়সূচি আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।

অতএব, ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষের আলাদা বর্ণনাই সামনে রয়েছে। একই সময়ে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটির পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর।

সর্বাধিক পঠিত