সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ—এই কয়েকটি শব্দই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক সচেতনতার প্রতীক। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অপমান, কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন কার্যকর প্রতিকার নেই, তখন তারকারাই সামনে এসে প্রতিবাদের নতুন ভাষা তৈরি করছেন। তারা শব্দ নয়, সংখ্যা দিয়ে বলছেন; কারণ প্রতিটি সংখ্যা লুকিয়ে রাখে অসংখ্য কষ্টের গল্প।
এই উদ্যোগ শুধু তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ এখন সাধারণ মানুষের মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ: আন্দোলনের শুরু
হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখে পড়ে সাদাকালো ছবি, যেখানে মুখের পাশে লেখা একটি সংখ্যা। কারও ৯, কারও ২৪, আবার কারও ১০০০।
এই সংখ্যাগুলো কোনো পরিসংখ্যান নয়; এগুলো একেকটি জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতীক।
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট বলেছেন—
সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে সহ্য করা প্রতিটি অপমান, প্রতিটি ক্ষত এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
এই বার্তাই সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ আন্দোলনকে শক্ত ভিত দিয়েছে।

কেন ডিজিটাল হয়রানি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি এখন শুধু মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এর মধ্যে রয়েছে—
-
কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
-
ব্যক্তিগত আক্রমণ
-
চরিত্র হনন
-
নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি
রুনা খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগে হয়রানি ছিল সামাজিক জীবনের বিভিন্ন পরিসরে। এখন তা সরাসরি অনলাইনে চলে এসেছে। সংখ্যা কমছে না, বরং প্রতিদিন বাড়ছে।
এই বাস্তবতায় সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ একটি সময়োপযোগী সামাজিক প্রতিবাদ।
তারকাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য
বিভিন্ন তারকা তাদের নিজ নিজ সংখ্যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন—
-
রুনা খান লিখেছেন ২৪ — এক দিনে পাওয়া হয়রানিমূলক মন্তব্যের সংখ্যা
-
মৌসুমী হামিদ সংখ্যা দিয়ে দেখিয়েছেন, উপেক্ষা করলেও হয়রানি থামে না
-
শবনম ফারিয়া লিখেছেন ১০০০ — প্রতিদিনের হয়রানির ভয়াবহ চিত্র
-
ভাবনা উল্লেখ করেছেন ৯৯+ বার
-
পুতুল, দীঘি, মারিয়া নূর সবাই নিজ নিজ সংখ্যায় যুক্ত হয়েছেন
এভাবেই সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ হয়ে উঠেছে একটি সম্মিলিত কণ্ঠ।
‘My Number and My Rules’—এর শক্তিশালী বার্তা
এই আন্দোলনের নাম “My Number and My Rules”।
এর মূল বক্তব্য খুব পরিষ্কার—
-
সংখ্যা বলবে, আমি নীরব নই
-
সংখ্যা বলবে, আমি দুর্বল নই
-
সংখ্যা বলবে, আমি আর সহ্য করব না
শবনম ফারিয়ার ট্যাগলাইন—
“তোমার নম্বরের গল্প বলো, আরও জোরে আওয়াজ তোলো”
এই আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এই আন্দোলনের গুরুত্ব
এই আন্দোলন শুধু তারকাদের নয়।
কারণ—
-
অনলাইন হয়রানি শুধু পরিচিত মানুষদের জন্য নয়
-
মত প্রকাশ করলেই অনেকেই নিশানায় পড়ছেন
-
নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
তাই সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জন্যও এক শক্তিশালী উদাহরণ।
ডিজিটাল সহিংসতা রোধে করণীয়
এই আন্দোলন সচেতনতা তৈরি করেছে। তবে কার্যকর পরিবর্তনের জন্য দরকার—
-
ডিজিটাল আইন প্রয়োগে কঠোরতা
-
দ্রুত রিপোর্টিং ও রেসপন্স ব্যবস্থা
-
সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো
-
অনলাইন নিরাপত্তা শিক্ষা
সংখ্যা লিখে হয়রানির প্রতিবাদ শুধু একটি ট্রেন্ড নয়; এটি একটি সামাজিক বার্তা।
এটি দেখিয়ে দিয়েছে, নীরবতা নয়—সচেতন প্রতিবাদই পরিবর্তনের পথে প্রথম ধাপ।সংখ্যা হয়তো ছোট, কিন্তু এর প্রভাব বিশাল।
এই আন্দোলন ভবিষ্যতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—এই প্রত্যাশাই এখন সবার।




