এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (69)
নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাইফকে রেখেই দল ঘোষণা বাংলাদেশের
Shikor Web Image (54)
ভারত-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে গেলে ফাইনালে যাবে কারা?
Shikor Web Image (50)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে কি আবারও ফিরল ‘চোকার্স’ তকমা?
Shikor Web Image - 2026-03-02T144320.883
রক্তাক্ত দেশ, তবুও প্রতিকূলতা ছাপিয়ে মাঠে নামছে ইরানের মেয়েরা
Shikor Web Image - 2026-03-02T143220.292
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব বিশ্বকাপে, দেশে ফেরা অনিশ্চিত জিম্বাবুয়ের

জাস্টিন গ্রিভস ডাবল সেঞ্চুরি: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অসম্ভব এক ড্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো যখন একটি দল “অসম্ভব লক্ষ্য” তাড়া করার চেষ্টা করে। ২০২৫ সালের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। যদিও তারা নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ৫৩১ রানের লক্ষ্য জেতার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলো, তবে জাস্টিন গ্রিভস ডাবল সেঞ্চুরি প্রদর্শনের মাধ্যমে দলকে জয়ের সমান ড্র করিয়ে দিয়েছেন।

এই কীর্তি শুধু রেকর্ড নয়, এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড, যা দেখায় এই দল কতটা ধৈর্য ও মনোবল নিয়ে খেলেছে।


জাস্টিন গ্রিভস ডাবল সেঞ্চুরি: ম্যাচের বিশদ

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিস্থিতি ছিল চরম চাপের। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬৭ রান তুলেছিল দল। দ্বিতীয় ইনিংসে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ৭২ রানে ৪ উইকেট হারানো পরিস্থিতি ছিল হতাশাজনক।

তবে শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভস গড়ে ১৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। বিশেষ করে, জাস্টিন গ্রিভস ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন, যা চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি হওয়ায় তাকে চতুর্থ ইনিংসের সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে দিয়েছেন।


অবিশ্বাস্য রেকর্ড ও কীর্তি

  • জাস্টিন গ্রিভস ও কেমার রোচ ১৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে।

  • এটি টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সপ্তম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রান।

  • শচীন টেন্ডুলকার ও মনোজ প্রভাকরের ১৯৯০ সালের ১৬০ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ৪ উইকেট ৭২ রানে হারানোর পর এই জুটি পুরো দলের মনোবল ও ম্যাচের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে এই ধরনের ধৈর্য্যপূর্ণ ব্যাটিং খুব কমই দেখা যায়।


ম্যাচের চরম মুহূর্ত

জ্যাকব ডাফির বলে শাই হোপ ১৪০ রানে আউট হন। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের আশা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। তবুও গ্রিভস ও রোচ শান্ত ও ধৈর্য্যপূর্ণভাবে খেলতে থাকেন।

শেষ ৩৩ ওভারে ১৩২ রানের প্রয়োজন ছিল এবং হাতে ছিল ৪ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিভস ও রোচ ৪১০ বল খেলে অবিচ্ছিন্ন ১৮০ রানের জুটি গড়েন, যা ম্যাচকে ড্র করতে সাহায্য করে। নিউজিল্যান্ডের পেসারদের চোটে ছিটকে যাওয়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ভাগ্যশালী মুহূর্ত ছিল।


ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্ব

  • টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে এত দীর্ঘ ব্যাটিং খুবই বিরল।

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সময়ে প্রথম ৪ উইকেট ৭২ রানে হারানোর পরও টেস্ট ড্র করেছে।

  • ১৯৩০ সালের পর এমন ব্যাটিং কখনও হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

গ্রিভসের ডাবল সেঞ্চুরি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, এটি দলের মনোবল ও ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা তুলে ধরেছে। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কীর্তি খুব কমই দেখা যায়।


শাই হোপের অবদান

শাই হোপও এ ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। চোখে ইনফেকশন থাকা সত্ত্বেও ১৪০ রান করে দলের জন্য বড় অবদান রাখেন। জয়ের সমীকরণ অনেক সময় তার হাতের মুঠোয় ছিল, তবে ধৈর্য্য ও পরিকল্পনার কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র হয়।


পরবর্তী ম্যাচ ও সিরিজের দিকনির্দেশনা

তিন ম্যাচের এই সিরিজে পরের টেস্ট শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর ওয়েলিংটনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ড্র থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে ভালো খেলতে পারবে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২৩১ ও ৪৬৬/৮ ডিক্লেয়ার (ল্যাথাম ১৪৫, রবীন্দ্র ১৭৬, ব্রেসওয়েল ২৪, ইয়াং ২৩; রোচ ৫/৭৮, শিল্ডস ২/৭৪, সিলস ১/৭২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬৭ ও ৪৫৭/৬ (গ্রিভস ২০২, হোপ ১৪০, রোচ ৫৮; ডাফি ৩/১২২, ব্রেসওয়েল ১/১৩৮)
ফল: ড্র
ম্যাচসেরা: জাস্টিন গ্রিভস

জাস্টিন গ্রিভস ডাবল সেঞ্চুরি ও রোচের অবিচলিত জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একটি অবিশ্বাস্য টেস্ট ড্র উপহার দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা ও ধৈর্য্যের মহিমা। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচকে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।

সর্বাধিক পঠিত