দুবাইয়ের ব্যস্ত ক্রিকেট অঙ্গনে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে সবচেয়ে আলোচনায় থাকা নাম নিঃসন্দেহে মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং। বাংলাদেশি কাটার-মাস্টার আবারও দেখালেন তাঁর পরিচিত ধার। গালফ জায়ান্টস ও আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি শুধু ফলাফলে প্রভাব রাখেননি—দুবাই ক্যাপিটালসের আত্মবিশ্বাসেও যুক্ত করেছেন নতুন মাত্রা।
প্রায় প্রতিটি ওভারেই নিয়ন্ত্রিত লাইন, দৈনিক ধারাবাহিক ডট বলের চাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট। সব মিলিয়ে দুবাইয়ের মাটিতে মোস্তাফিজ যেন নিজের ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পেয়েছেন।
মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং: দুই ম্যাচে ২৪ ডট বলের অপার নিয়ন্ত্রণ
(ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করা H2)
দুবাইয়ে প্রথম ম্যাচটি ছিল গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে। যদিও দল জিততে পারেনি, কিন্তু ম্যাচজুড়ে আলোচনায় ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট ইতোমধ্যে সংবাদ শিরোনাম। তবে আরও আলোচনায় আসে তাঁর ১৩টি ডট বল।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে প্রতিটি রানই মূল্যবান, সেখানে একজন পেসারের কাছ থেকে এত ডট বল পাওয়া সত্যিই দারুণ অর্জন।
এরপরের ম্যাচটি ছিল আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে—যেখানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থেকেই ম্যাচটি জিতে নেয় দুবাই ক্যাপিটালস। মোস্তাফিজ সেই জয় নিশ্চিত করার পেছনে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মাত্র ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২ উইকেট। সাদা বলের খেলায় তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত কাটার, লেংথ পরিবর্তন আর ধীর বল ব্যাটারদের ভুগিয়েছে।
এই ম্যাচেও দিলেন ১১টি ডট বল।
দুই ম্যাচে মোট ২৪ ডট বল—যা টি-টোয়েন্টিতে অত্যন্ত মূল্যবান একটি পরিসংখ্যান।
দুবাই লিগে মোস্তাফিজের সামগ্রিক পরিসংখ্যান
দুই ম্যাচে মোস্তাফিজ বোলিং করেছেন মোট ৪২টি বৈধ ডেলিভারি। সেখানেই বিশাল প্রাপ্তি—২৪টি ডট বল।
এর পাশাপাশি নিয়েছেন মোট ৪ উইকেট, আর রান দিয়েছেন মাত্র ৪৮।
এমন পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, দুবাইয়ে মোস্তাফিজ কেবল উইকেট নেননি—প্রতিপক্ষের স্কোরিং রেটও দৃঢ়ভাবে আটকে রেখেছেন।

সংক্ষেপে মোস্তাফিজের দুবাই পারফরম্যান্স:
| ম্যাচ | ওভার | রান | উইকেট | ডট বল |
|---|---|---|---|---|
| গালফ জায়ান্টস | ৪ | ২৬ | ২ | ১৩ |
| আবুধাবি নাইট রাইডার্স | ৩ | ২২ | ২ | ১১ |
| মোট | ৭ | ৪৮ | ৪ | ২৪ |
আবুধাবির বিপক্ষে ম্যাচ: কাটারে বোকা বানালেন ফিল সল্টকে
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আবুধাবি নাইট রাইডার্সের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এসে মাত্র ৫ রান দিয়ে প্রথম সাফল্য পান মোস্তাফিজ। ওপেনার উন্মুক্ত চাঁদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানাতে বাধ্য করেন।
ষষ্ঠ ওভারে তাঁকে আবার আক্রমণে আনা হয়। সেই ওভারেই দারুণ লেন্থ আর গতির তারতম্যে ফিল সল্টকে চমক দেন। তাঁর বিখ্যাত কাটার সল্টের ব্যাটের টাইমিং পাল্টে দেয়, যার ফলে সহজেই ক্যাচ তুলতে বাধ্য হন এই ইংলিশ ব্যাটার।
এই ডেলিভারিই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। সল্টকে আউট করার পর দুবাই ক্যাপিটালস পুরো ম্যাচেই তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
দলের জয়ে বড় ভূমিকা মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স
দুবাই ক্যাপিটালসের জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দুই ম্যাচে হারের ফলে দল কিছুটা চাপে ছিল। তবে আবুধাবিকে ৮৩ রানের বড় ব্যবধানে হারানোর পেছনে বোলারদের নিয়ন্ত্রণই প্রধান পার্থক্য তৈরি করে।
মোস্তাফিজের উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ডট বলগুলোর চাপ আবুধাবির ব্যাটারদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়।
ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে ৯৬ রান করে রোভম্যান পাওয়েল ও ৩৬ বলে ৫২ রান করে জর্ডান কক্স দলকে এনে দেন শক্ত ভিত। এরপর বোলারদের দৃঢ় পারফরম্যান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে দুবাই ক্যাপিটালসের হাতে তুলে দেয়।
আগামী ম্যাচে আবারও মোস্তাফিজকে দেখার প্রত্যাশা
আগামী ১৩ ডিসেম্বর দুবাই ক্যাপিটালস আবার মুখোমুখি হবে আবুধাবি নাইট রাইডার্সের। সেই ম্যাচেও মোস্তাফিজকে দলের অন্যতম বড় অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান ছন্দে তিনি যদি আরও একটি ম্যাচে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে দুবাই ক্যাপিটালসের টুর্নামেন্ট সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।




