এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (49)
৭০% মানুষের রায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়ঃ জামায়াত আমির
Untitled design (47)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা: বিজিবির বাধায় ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
Untitled design (43)
পুশ ইন করে ভারত মানবতাবিরোধী কাজ করছে : চরমোনাই পীর
Untitled design (40)
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ আজ
Untitled design (37)
বৈশ্বিক বিনিয়োগে গঠনমূলক সহযোগিতা করতে আগ্রহী ঢাকা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা: ছাত্রদল সম্পাদকের

শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা ঢাবিতে বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে সংঘর্ষে ২০ আহত। নাছিরের কড়া হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার বিস্তারিত জানুন।

ছাত্রদল শিবির গুপ্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দ নিয়ে আপত্তি থাকলেও এখন তা আরও বেশি করে ব্যবহৃত হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

চট্টগ্রামের ঘটনার প্রেক্ষাপট

দিনের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দেয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে ছাত্রদল।

ছাত্রদলের অবস্থান ও হুঁশিয়ারি

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, দেয়াল লিখন নিয়ে আপত্তি থাকলে পাল্টা লিখনই হতে পারত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু তার পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা তিনি ‘পৈশাচিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন,

“একবার ‘গুপ্ত’ বলাতেই যাদের এত সমস্যা, এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলা হবে।”

এই বক্তব্য ছাত্রদল শিবির গুপ্ত বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা সহ্য করবে না।

 ছাত্রদল শিবির গুপ্ত বিতর্ক: ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস তার বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন,

“ছাত্রশিবির সবসময় ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।”

তিনি বর্তমান সরকারকে তারেক রহমানের আদর্শিক সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেই ছাত্রদল সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এছাড়া, তিনি গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান জানান। কোনো ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলের বিস্তারিত

মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে উপাচার্য চত্বর, সূর্যসেন হল, মধুর ক্যান্টিন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন:

  • “শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না”
  • “গুপ্ত রাজনীতির ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না”
  • “শিবিরের সন্ত্রাস ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”

এই স্লোগানগুলো ছাত্রদল শিবির গুপ্ত বিতর্কের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও স্পষ্ট করে তোলে।

অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম ভূঁইয়া ইমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

সংঘর্ষের রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রদল শিবির গুপ্ত বিতর্ক শুধু একটি দেয়াল লিখন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ছাত্ররাজনীতির বৃহত্তর দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিফলন। চট্টগ্রামে সংঘর্ষ এবং ঢাবিতে বিক্ষোভ—দুটি ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্যাম্পাস রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।

ক্যাম্পাস রাজনীতির ভবিষ্যৎ

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহনশীলতা ছাড়া এই উত্তেজনা কমানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত