জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি—সিইসির ভাষণে তফসিলসহ ভোটের সময়, মনোনয়ন, আপিল ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা জানানো হয়েছে। সম্পূর্ণ আপডেট পড়ুন।
জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে—সিইসির জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণার পরই দেশের রাজনীতি নতুন গতি পেয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট চলবে। এ ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, ভোটার এবং প্রশাসনের জন্য একটি বড় বার্তা।
নির্বাচনের সম্পূর্ণ তফসিল, ভোট ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রবাসী ভোটাধিকার এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি: তফসিলের প্রধান ধাপসমূহ ঘোষণা
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাষণে বলেন, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই করা হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট, তারা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২–১৮ জানুয়ারি। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে, আর নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার; শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটার সংখ্যা ও প্রবাসী ভোটাধিকার
এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
ইসির মতে, প্রবাসী ভোটাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়াবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন ঘিরে আলোচনা
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে শুরু করে। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। তাদের ১৬ মাসের কার্যক্রমের পর জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের ঘোষণা দিল ইসি।
গত এক বছরে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন দাবি ছিল। বিএনপিসহ বেশ কিছু দল প্রাথমিকভাবে ডিসেম্বরেই নির্বাচন দাবি করেছিল। পরে সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠকে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতা হয়।
এরপর থেকেই ইসি প্রস্তুতি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন।
নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি।
একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—এ দুটো আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ইসি। সময় ব্যবস্থাপনা, ভোটকেন্দ্রে চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে এবারের নির্বাচন কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলবে প্রশাসনকে।
ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো
এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়ে সরাসরি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে।
ভোটকেন্দ্রে বাড়তি চাপ সামলাতে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছে ইসি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক বাহিনী মোতায়েন
ইতিমধ্যেই সরকার ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ৯ লাখের বেশি সদস্য মাঠে থাকবে—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সশস্ত্র বাহিনীসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এই দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা এবার একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি।
দলীয় প্রতীক ও নিবন্ধন পরিস্থিতি
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৫৬টি। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নিবন্ধিত অন্য দলগুলো তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
অন্যদিকে, স্বাধীন প্রার্থীরাও অংশ নিতে পারবেন, যদি তারা যোগ্যতা অর্জন করেন।
জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে কয়েকগুণ।
কেউ কেউ মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আবার অনেকেই বলছেন, এটি হবে নতুন কমিশনের স্বচ্ছতা ও সক্ষমতার প্রথম পরিমাপ।
ভোটার টার্নআউটের সম্ভাবনা
সময় বৃদ্ধি হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বেশি হতে পারে।
প্রবাসী ভোটাধিকার
৩ লাখের বেশি ভোটার যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
৯ লাখ সদস্য—এটি দেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বেষ্টনী।
একই দিনে দুটি ভোট
এ ব্যবস্থা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।




