বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আশাবাদী ফিফা সভাপতি। কেন তিনি মনে করেন বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে—জানুন বিস্তারিত বিশ্লেষণে।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল—এই স্বপ্ন এখন আর শুধু সমর্থকদের কল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই বলছেন, একদিন লাল-সবুজের বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে। ফুটবলপ্রেমী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে পরিচিতি, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে উঠে এসেছে ফিফা সভাপতির এই বক্তব্যের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাস আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই উন্মাদনা কবে মাঠে গড়াবে? কবে বাংলাদেশ নিজ দেশের জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলবে?
বিশ্বকাপ ট্রফি দেখে লাল-সবুজের স্বপ্ন
সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে এলে সেটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সেই মুহূর্তে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবে—এই বিশ্বাস তিনি লালন করেন।
জামালের এই বিশ্বাস শুধুই আবেগ নয়। বরং এটি বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমবর্ধমান উন্নতির প্রতিফলন। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে জাতীয় দল—সব পর্যায়েই বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি সংগঠিত।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ফিফা সভাপতির মন্তব্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্নে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সরাসরি উত্তর দেন। তিনি বলেন,
“অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে। ফিফার লক্ষ্যই হচ্ছে—বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশ যেন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল এখন আর অসম্ভব কোনো ধারণা নয়। বরং ফিফার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
নবাগত দলগুলোর উদাহরণ
ইনফান্তিনো তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আগামী বিশ্বকাপে এমন কয়েকটি দল থাকবে, যারা আগে কখনো বিশ্বকাপে খেলেনি।
যেমন—
-
আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে
-
কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও
-
এশিয়া অঞ্চল থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান
এই উদাহরণগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। কারণ এশিয়ার অনেক দেশই একসময় বাংলাদেশের মতো অবস্থানে ছিল।
বাংলাদেশ কেন ফিফার নজরে?
ফিফা সভাপতির মতে, বাংলাদেশ একটি “দারুণ ফুটবলপ্রেমী দেশ”। এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক।
ফিফা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
যুব ফুটবল উন্নয়ন
-
কোচিং শিক্ষা
-
অবকাঠামোগত সহায়তা
-
তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল সম্প্রসারণ
এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
যদিও ফিফা সভাপতির বক্তব্য আশাব্যঞ্জক, তবে বাস্তবতা কঠিন। বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং। বাংলাদেশকে নিয়মিত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঘরোয়া লিগের মান উন্নয়ন। পেশাদার লিগ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকা কঠিন।
তৃতীয়ত, বয়সভিত্তিক দলগুলোর ধারাবাহিক সাফল্য। এখান থেকেই মূলত জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। এই জায়গাগুলোতে উন্নতি হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবের পথে এগোবে।
সমর্থকদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সমর্থকরা। মাঠে হোক বা মাঠের বাইরে—বাংলাদেশি দর্শকদের আবেগ বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
ফিফা সভাপতি নিজেও বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিরল। এই সমর্থন যদি সংগঠিতভাবে ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগে, তবে ফলাফল আসবেই।
ফিফার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাংলাদেশ
ফিফার লক্ষ্য শুধু বড় দেশগুলো নয়। তারা চায় নতুন নতুন দেশ বিশ্বকাপে আসুক। এতে ফুটবলের বিশ্বায়ন আরও বিস্তৃত হবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশকে দেখা হচ্ছে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও উন্নয়নশীল ফুটবল দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর শেষ মন্তব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন,
“আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে মুখিয়ে আছি।”
এই বক্তব্য শুধু সৌজন্যমূলক নয়। এটি ফিফার দর্শন ও কৌশলের প্রতিফলন। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও কাঠামোগত উন্নয়ন হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল আর কেবল স্বপ্ন থাকবে না।




