দলীয় রাজনীতির নয় বিজয় চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণা; যশোর-খুলনায় জনসভা, নারীদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।”
যশোরে শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দলীয় রাজনীতির বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।” তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো যাবে না, চাঁদাবাজি হবে না।” তিনি এসময় বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “একটি বন্ধু সংগঠন মহিলাদের গায়ে হাত দিচ্ছে, যাদের হাতে মা-বোনেরা নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ থাকতে পারবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং প্রার্থীদের উপস্থিতি
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। বক্তৃতা দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, যশোর-১ আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল কাদের, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ আসনের প্রার্থী মোক্তার আলী।
সাতক্ষীরায় জনসভার হাইলাইট

সাতক্ষীরা শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় জোটের জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, “আগামীতে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হ্যাঁ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।” সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। বক্তৃতা দেন ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী কাজী নজরুল ইসলাম।
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা: জনমত ও প্রতিশ্রুতি
খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “জনগণের গায়ে হাত দিতে পারবেন, পিঠে চাবুক মারতে পারবেন; কিন্তু হৃদয় জয় করতে পারবেন না। হৃদয় জয় করতে হলে নিজ নিজ জায়গা থেকে মায়ের জাতিকে সম্মান দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্পষ্ট কথা—জীবন দেব, মায়ের ইজ্জত দেব। তাই কেউ আর এই অপকর্ম করবেন না।”
খুলনার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা
জামায়াতের আমির খুলনাবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আমরা যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আর কোনো মিলে তালা ঝুলবে না। নতুন মিল তৈরি করে খুলনার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে।” তিনি নারীদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন, “নতুন বাংলাদেশে তাদের বাড়ি, কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
খুলনাবাসীর ছয় দাবি
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি উপস্থাপন করেন:
-
বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়া সহ সব বিলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ
-
বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন
-
বন্ধ মিল পুনরায় চালু করা
-
পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা
-
আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ
-
সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা
খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “অনেকে বলেন জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা থাকতে পারবে না। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় মুসলমানরা হিন্দুদের জামাই আদরে রাখবে। এক হিন্দুকেও ভারতে যেতে হবে না।”
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বার্তা
জনসভায় জামায়াতের নেতারা বারবার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন। ভোটের মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করা হবে—এটাই মূল উদ্দেশ্য।
ভোট ও সমাজিক প্রতিশ্রুতি
জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করব।” এই প্রচারণা ও পরিকল্পনা শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
নির্বাচনের গুরুত্ব
জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার শুধুমাত্র সরকার নির্বাচন নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার একটি পথ। জামায়াতের নেতারা জনগণের জীবনমান, নারীর মর্যাদা এবং শিল্প-অর্থনীতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।




