এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আসছে বাস্তবধর্মী সংস্কার; জানুন ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার যা বাংলাদেশে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতি বরাবরই ইশতেহার ও বাস্তবায়নের দ্বন্দ্বে ভরা। তবে এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আসছে এক নতুন বাস্তবধর্মী সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে দলটির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা কোনো অবাস্তব কথা বলতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের চলমান সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ঢুকব না যেখানে ইশতেহার দেওয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় না।”
এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিশ্বাস করে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “সেকেন্ড রিপাবলিক কোনো স্লোগান নয়; এটি একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণ স্পষ্টভাবে চেয়েছিল রাষ্ট্রের পুনর্গঠন। এনসিপি এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেছে এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি।
ইশতেহারের বাস্তবধর্মী ৫টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার
-
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবধর্মী বরাদ্দ – অতীতে অনেক ইশতেহারে জিডিপির ৫% বরাদ্দের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন কমেছে। এনসিপি এই অঙ্গীকারটি বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করছে।
-
কানুন ও প্রশাসন সংস্কার – সরকারের কাঠামোর ভিতরে আইন ও নীতি প্রণয়ন করে জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
-
অর্থনৈতিক সাম্য ও কর্মসংস্থান – শ্রমিক ও পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকরী নীতি গ্রহণ।
-
সামাজিক অন্তর্ভুক্তি – বিভিন্ন কমিউনিটি ও জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
-
মানবিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার – জনগণকে সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার আশ্বাস।
এই ৫টি অঙ্গীকারই এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়নকে শুধুই প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং তা বাস্তব পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।
জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফল
এনসিপি ইশতেহারের ভিত্তি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কল্পনা নয়। এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের ফল। আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, “জুলাই পদযাত্রা থেকে শুরু করে আমরা মানুষের কথা শুনেছি। তাদের দাবিগুলো জানিয়েছি এবং সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে বসেছি।”
শিক্ষক, শ্রমিক ও পেশাজীবী গোষ্ঠীর মতামত ইশতেহার প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মোট ১২টি অধ্যায়ে বিভক্ত ৩৬টি দফার অগ্রাধিকার বাস্তবতা বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়েছে।
দায়িত্বশীল বাস্তবায়ন
এনসিপি এবং ১১ দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় এলে আইন, নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট
বিশ্বের বহু দেশেই রাজনৈতিক দলগুলি ইশতেহারের কথাগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। BBC-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইশতেহার বাস্তবায়নের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এনসিপি সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত পড়ুন Shikor TV Canada-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পাতায়।
সর্বশেষে বলা যায়, এনসিপি ইশতেহার বাস্তবায়ন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি দেশের জন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কার আনার প্রচেষ্টা। বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ, জনগণের সঙ্গে সংলাপ এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সংস্কার এই ইশতেহারের মূল শক্তি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যেখানে ইশতেহার কেবল শব্দ নয়, বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে কার্যকর হবে।




