এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
কমল সোনার দামঃ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
এক লাখ কোটি টাকার আমানতের ক্লাবে এবার পূবালী ব্যাংক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (11)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
বস্ত্র খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি: ৫% নগদ সহায়তার বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
দাম বাড়ার পর আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

সোনার দাম ২০২৬: বিশ্ববাজারে উঠতে পারে ৪,৯০০ ডলার

বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা যত বাড়ছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ ততই শক্তিশালী হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সোনার দাম ২০২৬ সালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। চলতি বছরই বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ঊর্ধ্বগতি এখানেই থেমে যাবে না।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও ভয়ংকর গতিতে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

সোনার দাম ২০২৬: কেন এত আলোচনা?

বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম ২০২৬ সালে বাড়ার পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ রয়েছে। এগুলো শুধু অনুমাননির্ভর নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

গোল্ডম্যান স্যাকসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ ভাগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪,৯০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এটি হলে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের শক্তিশালী পূর্বাভাস

গোল্ডম্যান স্যাকসের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে সোনায় যে পরিমাণ বিনিয়োগ হওয়া উচিত, বাস্তবে তা হচ্ছে না। তবে এই অবস্থা দীর্ঘদিন থাকবে না। বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ারবাজারের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণেও সোনায় বিনিয়োগ বাড়াবেন, তখনই দামের ওপর বড় প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়,

“সোনার ক্ষেত্রে এখন বড় চাহিদা বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই; সামান্য বিনিয়োগ প্রবাহই দামকে দ্রুত উপরের দিকে ঠেলে দিতে পারে।”

এই কারণেই সোনার দাম ২০২৬ সালে হঠাৎ বড় লাফ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার ধারা

সোনার দামের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতির অন্যতম বড় কারণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা। ২০২২ সালে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ হওয়ার পর অনেক দেশ উপলব্ধি করে যে, ডলারনির্ভর রিজার্ভ ঝুঁকিপূর্ণ।

এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনার মজুত বাড়াতে শুরু করে।

👉 ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী,
২০২৫ সালের Central Bank Gold Reserve Survey-এ দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে সোনার ভান্ডার আরও বাড়াতে আগ্রহী
(External authoritative source: World Gold Council)

এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম ২০২৬ সালে বাড়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানো

সোনার দামের আরেকটি বড় চালিকা শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ফেড সুদহার কমিয়েছে।

বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন,
২০২৬ সালে আরও ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানো হতে পারে।

সাধারণত সুদহার কমলে ডলার দুর্বল হয় এবং সোনা বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক ডিপোজিট বা বন্ডের চেয়ে সোনার দিকে ঝুঁকেন।

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপদ বিনিয়োগ

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা একটি বড় বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি এবং শুল্কভিত্তিক কৌশল আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক বন্ডের তুলনায় সোনাকে বেশি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখছেন। ফলে সোনার দাম ২০২৬ সালে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে।

গত ২০ বছরে সোনার দামের বাস্তব চিত্র

সোনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এর দাম সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে কমে না।

GoldPrice.org–এর তথ্য অনুযায়ী:

  • গত ২০ বছরে সোনার দাম বেড়েছে ৭১৮%

  • গত ৫ বছরে বেড়েছে ১৩৪%

  • শুধু গত ১ বছরে বেড়েছে ৬১.৬৪%

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, সোনা শুধু নিরাপদই নয়, বরং লাভজনক বিনিয়োগও।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা

সব বিশ্লেষণ এক জায়গায় এনে দেখা গেলে বোঝা যায়, সোনার দাম ২০২৬ সালে বাড়ার পেছনে কোনো একক কারণ নয়; বরং একাধিক শক্ত ভিত্তি রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, সুদহার, ভূরাজনীতি এবং বিনিয়োগ প্রবণতা—সব মিলিয়েই সোনাকে ভবিষ্যতের অন্যতম শক্তিশালী সম্পদে পরিণত করছে।

যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য সোনা আবারও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত