এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক। ৩০ লাখ নথিতে জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ, তদন্ত ও প্রভাবশালীদের যোগাযোগ উঠে এসেছে।
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশকে ঘিরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে পরিচালিত দীর্ঘ তদন্তের নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পর প্রশ্ন উঠছে—এই ফাইলগুলোতে আর কারা জড়িত, আর কী ধরনের তথ্য সামনে আসতে পারে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়। এই নথিগুলোকেই সম্মিলিতভাবে বলা হচ্ছে এপস্টেইন ফাইলস।
এপস্টেইন ফাইলস কী?
এপস্টেইন ফাইলস বলতে বোঝানো হচ্ছে জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে চালানো একাধিক তদন্তে সংগৃহীত নথিপত্র, ইমেইল, সাক্ষ্য, সম্পত্তিতে চালানো অভিযানের তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি। দীর্ঘ সময় এসব নথি গোপন রাখা হলেও অবশেষে সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ফাইলগুলোতে এপস্টেইনের অপরাধের ধরণ, তার সহযোগীদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালীর সাথে যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস

জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নতুন নয়।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাড়িতে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। সে সময় প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে তিনি বড় ধরনের সাজা থেকে রেহাই পান। তবে তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এর প্রায় ১১ বছর পর, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
তদন্তে কীভাবে তৈরি হলো এপস্টেইন ফাইলস
দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালায়। সেখানে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ নথিপত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং ইমেইল। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যও সংগ্রহ করা হয়।
এই সব তথ্য একত্র করেই তৈরি হয়েছে এপস্টেইন ফাইলস, যা এতদিন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
এপস্টেইন ফাইলস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়ানো বিতর্ক
এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উঠে আসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
প্রকাশিত ইমেইল ও কংগ্রেসের ভূমিকা
হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সম্প্রতি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু ইমেইল প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।
ইমেইলগুলোতে এপস্টেইন লিখেছিলেন যে, এক ভিক্টিম তার বাড়িতে ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ওই ভিক্টিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।
ভার্জিনিয়া গিফ্রে কী বলেছিলেন?
এখানেই আসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। মৃত্যুর আগে ভার্জিনিয়া গিফ্রে নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখেননি।
প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলস বা সংশ্লিষ্ট ইমেইলগুলোতেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অন্যায়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পও ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
বিশ্বজুড়ে আগ্রহের কারণ কী?
এই ফাইলগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, প্রশ্ন উঠছে—এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত আরও কত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক চরিত্রের নাম সামনে আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হবে, বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতিতে।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উদাহরণ হিসেবে, এপস্টেইন ফাইলস সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে




