এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (34)
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন
Untitled design (31)
ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
Untitled design (22)
নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড়, দেরিতে গুনতে হবে জরিমানা
Untitled design (20)
জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা
Untitled design (16)
তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি সমাহিত। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজা, দাফন ও হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানুন।

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি—এই বাক্যটি এখন শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী রাজনীতির এক নীরব স্মারক। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই দাফন সম্পন্ন হয়।

এই দাফনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি হৃদয়বিদারক অধ্যায়। যেখানে একজন তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক, সম্ভাবনাময় নেতা এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাহীনতার বলি হতে দেখা গেল।

জানাজার সময় ও স্থান: মানুষের ঢল

শনিবার দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।

জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া মানুষের চোখে ছিল শোক, মুখে ছিল ক্ষোভ। অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী গাড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি কেন সমাহিত হলেন?

জাতীয় কবির আদর্শ ও হাদির সংগ্রামের মিল

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি—এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিদ্রোহের কবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ। শরিফ ওসমান হাদিও ছিলেন একই আদর্শের ধারক।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত কথা বলতেন। এই মিলের কারণেই হাদিকে জাতীয় কবির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

দাফনের আগে কবর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকেই জাতীয় কবির সমাধির পাশে কবর খননের কাজ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন—

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ

  • ডিএমপির রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম

  • প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক

পুরো এলাকা ছিল কঠোর নিরাপত্তার আওতায়।

জানাজার নামাজে ভাইয়ের কণ্ঠে শেষ বিদায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় জানাজার নামাজ পড়ান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। তার কণ্ঠে ছিল আবেগ, চোখে ছিল অশ্রু।

নামাজ চলাকালে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। উপস্থিত মানুষদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এটি শুধু একটি জানাজা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক হত্যার বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদে পরিণত হয়।

যেভাবে নিহত হন শরিফ ওসমান হাদি

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

তৎক্ষণাৎ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা ও মৃত্যুর খবর

অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় শোক ও প্রতিবাদের ঝড়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই একে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি: ভবিষ্যতের বার্তা

জাতীয় কবির সমাধির পাশে শহীদ হাদি—এই সমাহিত হওয়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা বহন করে। এটি বলে দেয়, প্রতিবাদের পথ সহজ নয়। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারা মৃত্যুর পরও স্মরণীয় হয়ে থাকে।

হাদির কবর আজ শুধু একটি সমাধি নয়, এটি হয়ে উঠেছে ন্যায়বিচার ও মুক্তচিন্তার প্রতীক।

সর্বাধিক পঠিত