আরও খবর

Shikor Web Image (83)
ক্ষমতার রাজনীতি নয় ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য: মামুনুল হক
Shikor Web Image (80)
জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ: বলেন শাসকরা মালিক নয় হবে সেবক
Shikor Web Image (77)
ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশে ভাষণ: বলেছেন তরুণদের হাতে নতুন দেশ তুলে দিতে চাই
Shikor Web Image (71)
নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: মাঠে নামছে ৬৫৫ জন
Shikor Web Image (68)
ভোট দেওয়ার আগে যেসব তথ্য জানা জরুরি

নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল: না করলে ৭ বছরের কারাদণ্ড

নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান। ইসির গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্রে সব প্রার্থীর জন্য কঠোর আইনানুগ সতর্কতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিশেষ পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রটি ইতোমধ্যে দেশের সব রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল নিয়ে ইসির স্পষ্ট নির্দেশনা

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিজয়ী ও পরাজিত—উভয় ধরনের প্রার্থীই একই বিধানের আওতায় থাকবেন।

এই নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে নির্ধারিত ফরম-২২ অনুযায়ী এবং তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

এজেন্ট না থাকলে প্রার্থীর দায়িত্ব কী

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রার্থী নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করেননি, তারা নিজেরাই এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের ফরম-২২–এর সঙ্গে এফিডেভিট সংযুক্ত করে নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীকে রিটার্নের একটি অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। এই বিধান মানা না হলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও হিসাব জমা বাধ্যতামূলক

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কিংবা যাদের নির্বাচনী ব্যয় হয়নি—তাদের ক্ষেত্রেও ছাড় নেই। এসব প্রার্থীকেও নির্ধারিত ফরমে শূন্য ব্যয় উল্লেখ করে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এই বিধান সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

আইন অনুযায়ী কী শাস্তি হতে পারে

শাস্তির বিষয়ে পরিপত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৪৪গ-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করা বা ইসির নির্দেশনা অমান্য করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই অপরাধে দোষী ব্যক্তি:

  • ন্যূনতম ২ বছর

  • এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে
    দণ্ডিত হতে পারেন। পাশাপাশি অর্থদণ্ডও আরোপ করা হতে পারে।

ইসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।

রিটার্নিং অফিসারদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

পরিপত্রে রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকাও স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারবেন।

এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে।

দাখিলকৃত হিসাব জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসি জানিয়েছে, প্রার্থীদের দাখিলকৃত ব্যয় বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে

জনসাধারণ চাইলে:

  • ১০০ টাকা ফি দিয়ে এসব নথি পরিদর্শন করতে পারবেন

  • এবং প্রতি পৃষ্ঠা ১০০ টাকা ফি দিয়ে সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন

এই ব্যবস্থা নির্বাচন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক নজরদারি বাড়াবে বলে মনে করছে কমিশন।

প্রয়োজনীয় ফরম ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইসি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ফরম—২২, ২২ক, ২২খ ও ২২গ—ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রতিটি প্রার্থীর নিকট এসব ফরমের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

৩০ দিন পর ইসিকে প্রতিবেদন দিতে হবে

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিন পর:

  • কোন কোন প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেছেন

  • এবং কারা ব্যর্থ হয়েছেন

  • ব্যর্থদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

—এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা।

নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত এই নির্দেশনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনী আইন ও ব্যয় সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ পাওয়া যায় নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল বিষয়ে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের নীতিমালায়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত