এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (38)
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের
Untitled design (33)
আজকের স্বর্ণের দামঃ ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে
Untitled design (30)
ঈদ সামনে রেখে মার্কেটে বিপুল জাল টাকা ছড়িয়েছে একটি চক্রঃ ডিবি
Untitled design (27)
বন্ধ কারখানা চীনের সহায়তায় চালু করতে চায় সরকারঃ শিল্পমন্ত্রী
Untitled design (18)
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি: রমজান আগেই ২০০ টাকার মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা

সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি রমজান আগেই দেখা দিয়েছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে, দাম প্রতি মণ ২০০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। বিস্তারিত এখানে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রমজান মাসের আগেই সয়াবিন তেল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেটের কয়েকশ পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ব্রোকারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণ প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, মিল থেকে সয়াবিনের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাজারে মালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলািছ বলেন, “বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ প্রায় নেই। আমরা বর্তমানে আগের কিনে রাখা তেল বিক্রি করছি। মিল থেকে নতুন মাল পাচ্ছি না। শুধুমাত্র মেঘনা ও টিকে গ্রুপের সয়াবিন বাজারে আছে। অন্য কোনো কোম্পানির সরবরাহ নেই। নতুন করে কিনতে হলে প্রতি মণ সাড়ে ৭ হাজার টাকায় কিনতে হবে।”

সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি: সরবরাহ সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকারকরা বুকিং কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “রমজানের আগে দাম আরো বাড়বে কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকলে দাম বাড়তেই পারে।”

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সয়াবিন আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন, ডিসেম্বর মাসে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন এবং জানুয়ারিতে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন।

গতকাল খোলা পাইকারি বাজারে সয়াবিন প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৭,০৫০ টাকা এবং পাম অয়েল ৫,৯০০ টাকায়। অন্য ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সয়াবিন তেল বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি এবং ডিও–স্লিপ ব্যবসার প্রভাব

পাইকারি বাজারে ডিও (Delivery Order) এবং স্লিপ বেচাকেনা সয়াবিন ও পাম অয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, মিল থেকে নির্ধারিত সময়ে মাল ডেলিভারি না করা, ডিওর হাতবদল এবং স্লিপের মেয়াদ বাড়ানো এই অস্থিরতার কারণ।

এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানালেন, “স্লিপ ব্যবসা হলো ক্রেতা ১০–১৫ দিনে কিছু অগ্রিম টাকা দিয়ে তেল কিনে নেওয়া এবং বাকিটা ডেলিভারির সময় পরিশোধ করা। কিন্তু হাতে হাতবদলের কারণে স্লিপের মেয়াদ বেড়ে যাচ্ছে। ডিওর মেয়াদ সরকারিভাবে ১৫ দিন হলেও এখন এক ডিও ছয়–সাত মাস পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। মালিক পণ্য সরবরাহ না করে মজুত রাখছে, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ডিও ও স্লিপ বেচাকেনার অনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। খাতুনগঞ্জের কয়েকটি ডিও ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ডে জড়িত।

সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি: রমজান মাসের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব

রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, সরবরাহের ঘাটতি থাকলে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। খাতুনগঞ্জে সোনা মিয়া মার্কেটের মতো প্রধান পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ক্রিয়াকলাপ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। শতাধিক ব্যবসায়ী এবং কয়েকশ ব্রোকার পণ্যের দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছেন।

মূলত, সরবরাহের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব এবং ডিও–স্লিপ বেচাকেনার কারণে রমজানের আগেই সয়াবিন তেল দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে।

সর্বাধিক পঠিত