অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিদায় শঙ্কা বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় হার। এখন সুপার এইটে ওঠা নির্ভর করছে অন্য ম্যাচের ফলের ওপর। বিস্তারিত জানুন।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর সুপার এইটে ওঠার সমীকরণ এখন অন্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নদের। এই পরিস্থিতিই তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিদায় শঙ্কা, যা এখন বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গ্রুপ পর্বে চাপে অস্ট্রেলিয়া
ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। এই পরাজয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’-তে তাদের অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছন্দহীন পারফরম্যান্স করা দলটি এখন কার্যত ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল।
শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন পাথুম নিশাঙ্কা। মাত্র ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে দলকে সহজ জয়ে পৌঁছে দেন তিনি। তার এই ইনিংস ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
🔹 অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিদায় শঙ্কা: সমীকরণ এখন অন্যের হাতে
বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপার এইটে ওঠার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচের দিকে।
সমীকরণটি জটিল হলেও পরিষ্কার—
-
জিম্বাবুয়ে যদি তাদের বাকি দুই ম্যাচের অন্তত একটি জিতে যায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
-
তবে জিম্বাবুয়ে যদি দুই ম্যাচেই হারে, তাহলে শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
-
শুধু জয় নয়, নেট রান রেটের দিক থেকেও এগিয়ে যেতে হবে।
এই পরিস্থিতিই তৈরি করেছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
অধিনায়ক মার্শের হতাশা
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিচেল মার্শ দলের হতাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“এখন আমরা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছি। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। ড্রেসিংরুমে সবাই ভীষণ হতাশ।”
তার এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রত্যাশার সঙ্গে পারফরম্যান্সের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ইনজুরি সমস্যায় অস্ট্রেলিয়া
টুর্নামেন্টজুড়ে ইনজুরির ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে। দলের প্রধান দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি বোলিং আক্রমণকে দুর্বল করে দিয়েছে।
এই দুই অভিজ্ঞ বোলারের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিতি বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার
শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, টুর্নামেন্টের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন অবস্থায় ফেলে দেয়। সেই ম্যাচের পর থেকেই গ্রুপে সমীকরণ জটিল হতে শুরু করে।
এই পরাজয়ই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচের ফল সুপার এইটে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শ্রীলঙ্কার শক্ত অবস্থান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা এখন গ্রুপে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তারা সুপার এইটে ওঠার পথে এগিয়ে।
এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই তাদের আধিপত্য ছিল।
নেট রান রেটের লড়াই
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেট রান রেট বড় ভূমিকা রাখে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই দিকটি।
শেষ ম্যাচে শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য দলের ফলও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?
বর্তমান চিত্র অনুযায়ী তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে—
১. জিম্বাবুয়ে জিতলে
অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত।
২. জিম্বাবুয়ে হারলে
শেষ ম্যাচে বড় জয় জরুরি।
৩. নেট রান রেট
শেষ পর্যন্ত এটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
মানসিক চাপ ও দলে আত্মবিশ্বাসের সংকট
দলের ভেতরে চাপ বাড়লেও অস্ট্রেলিয়া এখনো লড়াই ছাড়েনি। অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফ আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
তবে বড় টুর্নামেন্টে এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তাদের ভবিষ্যৎ।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন যে পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ আর অস্ট্রেলিয়ার হাতে নেই। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এড়াতে হলে অন্য দলের ব্যর্থতা ও নিজেদের বড় জয়—এই দুইয়ের সমন্বয় দরকার।
এই বাস্তবতাই তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিদায় শঙ্কা, যা বিশ্ব ক্রিকেটে এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে।









