এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (38)
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের
Untitled design (33)
আজকের স্বর্ণের দামঃ ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে
Untitled design (30)
ঈদ সামনে রেখে মার্কেটে বিপুল জাল টাকা ছড়িয়েছে একটি চক্রঃ ডিবি
Untitled design (27)
বন্ধ কারখানা চীনের সহায়তায় চালু করতে চায় সরকারঃ শিল্পমন্ত্রী
Untitled design (18)
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

শীতের সবজির দাম উদ্বেগজনক! বাজার ভরা থাকলেও কমছে না দাম

শীত এলেই সাধারণ মানুষ আশা করে শীতের সবজির দাম কিছুটা হলেও কমবে। কারণ এই মৌসুমে দেশজুড়ে মাঠ ভরে ওঠে নানা ধরনের সবজিতে। উৎপাদন বাড়ে, সরবরাহ থাকে পর্যাপ্ত। তবুও বাস্তব চিত্র যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। রাজধানীর বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সবজির স্তূপ থাকলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এই চিত্রই চোখে পড়েছে। শীতের সবজি থাকা সত্ত্বেও ক্রেতারা দামে স্বস্তি পাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি ক্ষোভ ও প্রশ্ন—শীতের সবজির দাম এত বেশি কেন?

শীত মৌসুমে সাধারণত ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, মূলা, মিষ্টি কুমড়া—এই সবজির উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ বেশি থাকার পরও শীতের সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় খুব একটা কমেনি।

অনেক ক্রেতাই বলছেন, “বাজারে সবজি দেখলে মনে হয় দাম কম থাকবে, কিন্তু কিনতে গেলে বাস্তবতা ভিন্ন।”


 রামপুরার বউ বাজারে আজকের সবজির দাম

শুক্রবার সকালে রামপুরার বউ বাজারে ঘুরে দেখা গেছে—

  • ফুলকপি: ৫০ টাকা (প্রতি পিস)

  • বাঁধাকপি: ৪০ টাকা (প্রতি পিস)

  • শিম: ৭০–৮০ টাকা (প্রতি কেজি)

  • মূলা: ৩০–৪০ টাকা (প্রতি কেজি)

  • লাউ: ৬০ টাকা (প্রতি পিস)

  • কাঁচা মিষ্টি কুমড়া: ১৫০ টাকা (প্রতি পিস)

  • মিষ্টি কুমড়া (ফালি): ৩০ টাকা

  • আলু: ২৫–৩০ টাকা (প্রতি কেজি)

  • জলপাই: ৪০ টাকা (প্রতি কেজি)

এই দামের তালিকা দেখেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য শীতের সবজির দাম এখনো চাপের।


শীতের সবজির দাম নিয়ে ক্রেতাদের বক্তব্য

বাজারে কথা হয় ক্রেতা সোহেল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন,

“শীতকাল এলে সবজির দাম এমনি কম থাকার কথা। ১০০ টাকায় অন্তত আড়াই-তিন কেজি সবজি পাওয়া উচিত। কিন্তু এখানে তো ২ কেজি সবজি কিনতেই ১২০ টাকা লাগছে।”

তার মতে, গত সপ্তাহের তুলনায় দামে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ফলে শীত এলেও সবজির বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।


 বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা

খুচরা বিক্রেতা আকাশ জানান,

“আমরা সবজি নিয়ে আসি কারওয়ান বাজার থেকে। সেখানে নানা কোয়ালিটির সবজি থাকে, তাই দামে পার্থক্য হয়। পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে আমাদের লাভ থাকে কেজিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে শীতের সবজির দাম কমানো সম্ভব নয়। মূল সমস্যা সৃষ্টি হয় সরবরাহের আগের ধাপগুলোতে।


সরকারি দামের সঙ্গে বাজার দরের পার্থক্য

সরকারি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
২৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীর বাজারে—

  • আলু: ১৯ টাকা (প্রতি কেজি)

  • মিষ্টি কুমড়া: ৩০ টাকা (প্রতি কেজি)

  • শিম: ৭০ টাকা (প্রতি কেজি)

  • ফুলকপি ও বাঁধাকপি: ৩৫ টাকা (প্রতি পিস)

  • লাউ: ৪৫ টাকা (প্রতি পিস)

  • মূলা: ৩৫ টাকা (প্রতি কেজি)

কিন্তু বাস্তব বাজারে এসব দাম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এখানেই প্রশ্ন ওঠে—তবে কি শীতের সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই?



সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা

কৃষক থেকে ভোক্তার হাতে সবজি পৌঁছাতে চার-পাঁচটি ধাপ পেরোতে হয়। এই দীর্ঘ সরবরাহ চেইনের প্রতিটি ধাপে মূল্য যোগ হয়। ফলে মাঠ পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সবজিই শহরে এসে হয়ে যায় চড়া দামের।


কৃষক বনাম ভোক্তা—কারা ক্ষতিগ্রস্ত?

অবাক করা বিষয় হলো, কৃষক এবং ভোক্তা—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত। কৃষক ন্যায্য দাম পান না, আর শহরের মানুষকে কিনতে হয় অতিরিক্ত দামে। মাঝখানে লাভবান হয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। এভাবেই শীতের সবজির দাম স্থিতিশীল থাকে না।


বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী না হলে এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না হলে দাম কমানো সম্ভব নয়।
সবজি বাজার ও মূল্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে Wikipedia–এর “Vegetable market” সংক্রান্ত প্রতিবেদনে—যা শীতের সবজির দাম বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক।


শীতের সবজির দাম কমাতে করণীয়

  • প্রতিটি বাজারে নিয়মিত মনিটরিং

  • কৃষকদের জন্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ

  • মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ

  • সরকারি খোলাবাজার কার্যক্রম জোরদার

  • ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি
    সবজি ভরপুর থাকা সত্ত্বেও শীতের সবজির দাম না কমা বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থার একটি বড় সংকেত। সঠিক তদারকি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ তৈরি করতে পারলেই এই সংকট কাটানো সম্ভব। নাহলে শীত এলেও সবজির বাজারে স্বস্তি আসবে না—এ কথাই এখন স্পষ্ট।

সর্বাধিক পঠিত