এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (25)
সিজেপির ২ নেতাকে ৫ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত
News Photocard (10)
খামেনির জানাজায় যাওয়া বিমানে বাধা, যে ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সৌদি আরবকে
News Photocard
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে
News Photocard (9)
আমার বিশ্বাস হয় না চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে: ট্রাম্প
News Photocard (12)
আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছে: ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

সৌদির সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

সৌদির সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা: ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে গুরুতর প্রভাব, আরামকো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

সৌদি আরবের আরামকো কোম্পানির রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর শোধনাগারটি বন্ধ করা হয়েছে। আজ সোমবার এক শিল্প সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত হওয়ায় তেহরান অঞ্চলে এই হামলা চালিয়েছে। ফলে আরামকো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাস তানুরা কমপ্লেক্স উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলোর মধ্যে একটি। শোধনাগারের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। এটি সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রধান রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে।

শিল্প সূত্র জানিয়েছে, শোধনাগারটি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরামকো এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

হামলার প্রভাব বিস্তৃত

ড্রোন হামলা উপসাগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবুধাবি, দুবাই, দোহা, মানামা এবং দুকম। হামলার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের প্রধান শিপিং হাবগুলোও প্রভাবিত হয়েছে।

সৌদি আরবের শক্তিশালী জ্বালানি স্থাপনাগুলো এর আগেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, আবকাইক এবং খুরাইস প্ল্যান্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে রাজ্যের অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

সৌদি আরব তেল শোধনাগারে হামলা: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

সৌদি আরব তেল স্থাপনাগুলো প্রায়শই জায়গাভিত্তিক উত্তেজনার কারণে ঝুঁকির মুখে থাকে। ২০১৯ সালের হামলার পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমান হামলা পূর্ববর্তী ঘটনার সঙ্গে তুলনীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আরামকোর প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আরামকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে শোধনাগারটি বর্তমানে বন্ধ আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোম্পানি এখনও হামলার পরবর্তী প্রভাব ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিকর টিভি কানাডা-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব তেল শোধনাগারে হামলা ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে সৌদি আরব তেল শোধনাগারে হামলা দেখানো হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

রাস তানুরা শোধনাগারের দৈনিক উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ধরনের হামলা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব তেল শোধনাগারে হামলা একবার পুনরায় প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলো জায়গাভিত্তিক সুরক্ষার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আরামকো এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

সর্বাধিক পঠিত