দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা । ২২ ক্যারেটসহ সব ক্যাটাগরির সর্বশেষ আপডেট জানুন আজকের বাজার বিশ্লেষণে।
বাংলাদেশে সোনার দাম আবারও সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ৯ এপ্রিল সকালে নতুন করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই নির্ধারিত দরেই আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে। মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেই এ পরিবর্তন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশে সোনার দাম কত চলছে এখন
সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে খরচ করতে হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এটি সাম্প্রতিক কমানো দামের ভিত্তিতে নির্ধারিত।
এছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির সোনার দামও নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ:

- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা
এই দামে বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে এবং আপাতত কোনো নতুন পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি।
কেন কমলো বাংলাদেশে সোনার দাম
বাংলাদেশে সোনার দাম কমার প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানিনির্ভরতা। যেহেতু বাংলাদেশে সোনা উৎপাদিত হয় না, তাই সম্পূর্ণভাবে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাজুস ৯ এপ্রিল ২২ ক্যারেট সোনার দামে এক ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্তের পরই বাজারে নতুন দামে সোনা বিক্রি শুরু হয়।
অতিরিক্ত খরচ: ভ্যাট ও মজুরি
সোনার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের আরও কিছু অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
- সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট
- বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি
তবে গয়নার ডিজাইন, মান এবং কারুকাজের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
২০২৬ সালে কতবার পরিবর্তন হয়েছে সোনার দাম
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৫৪ বার সোনার দামে সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে:
- দাম বেড়েছে ৩১ বার
- দাম কমেছে ২৩ বার
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বাজারে সোনার দাম অত্যন্ত অস্থির অবস্থায় রয়েছে এবং নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে।
বাংলাদেশে সোনার দাম নিয়ে বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে সোনার দাম ওঠানামার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে:
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে সোনার দর বাড়লে বা কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে।
ডলার রেট
ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আমদানি খরচ বাড়ে, ফলে সোনার দামও বাড়তে পারে।
আমদানি নির্ভরতা
দেশে নিজস্ব উৎপাদন না থাকায় সম্পূর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা দামকে অস্থির করে তোলে।




