এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (19)
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ ব্যর্থ : রিপোর্ট
News Photocard (6)
ডাকভোট ইস্যুতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের হুমকি ট্রাম্পের
News Photocard (25)
সিজেপির ২ নেতাকে ৫ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত
News Photocard (10)
খামেনির জানাজায় যাওয়া বিমানে বাধা, যে ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সৌদি আরবকে
News Photocard
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে

বেলারুশ থেকে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা: জেলেনস্কি

বেলারুশ থেকে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জেলেনস্কির সতর্কবার্তা। রাশিয়ার সম্ভাব্য কৌশল ও বেলারুশ ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে বেলারুশ ন্যাটো হামলা পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া নতুন কৌশল বিবেচনা করছে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেলারুশকে আরও গভীরভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছে এবং সেই ভূখণ্ড ব্যবহার করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি এসব তথ্য জানান। তার মতে, ইউক্রেন ইতোমধ্যে রাশিয়ার এই ধরনের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করছে।

রাশিয়া-বেলারুশ সম্পর্ক ও সম্ভাব্য কৌশল

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী,

রাশিয়া বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে নতুন সামরিক অভিযানে যুক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এই আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেন অবগত রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বেলারুশ ন্যাটো হামলা পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ বেলারুশের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেলারুশের দক্ষিণে ইউক্রেন অবস্থিত, আর উত্তরে ও পশ্চিমে ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়া রয়েছে। ফলে এই অঞ্চল থেকে কোনো অভিযান চালানো হলে তা ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্ভাব্য লক্ষ্য: ইউক্রেন ও ন্যাটো দেশ?

জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়া বেলারুশের দক্ষিণ ও উত্তরে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে থাকতে পারে ইউক্রেনের চেরনিহিভ ও কিয়েভ অঞ্চল, অথবা সরাসরি কোনো ন্যাটো দেশের ওপর আক্রমণ।

এই বেলারুশ ন্যাটো হামলা পরিকল্পনা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে পরিস্থিতিকে তিনি গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মস্কো ও মিনস্কের প্রতিক্রিয়া নেই

জেলেনস্কির এই বক্তব্যের পর মস্কো বা মিনস্কের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাশিয়া সাধারণত তার সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করে না এবং এগুলোকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো আগেও বিভিন্ন সময় রাশিয়াকে সহায়তা করেছেন বলে ইউক্রেন দাবি করে আসছে।

বেলারুশের ভূমিকা ও সামরিক সহযোগিতা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সময় বেলারুশ তার ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও সরাসরি বেলারুশ সেনা যুদ্ধে অংশ নেয়নি।

এরপর থেকে মিনস্ক রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে সম্মতি দিয়েছে বলে জানা যায়। এই প্রেক্ষাপটে বেলারুশ ন্যাটো হামলা পরিকল্পনা আরও সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সতর্কতা

জেলেনস্কি গত মাসেও জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যা ইঙ্গিত করে রাশিয়া আবারও বেলারুশকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যদি লুকাশেঙ্কো এই পরিকল্পনায় সমর্থন দেন, তাহলে ইউক্রেন নিজেদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ইতোমধ্যে পাল্টা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে এবং চেরনিহিভ ও কিয়েভ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ বেলারুশকে ঘিরে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি ন্যাটো সীমান্ত অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই কারণে বেলারুশ ন্যাটো হামলা পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত