এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
Shikor Web Image (51)
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় এমন কথাই মুছে দেব: বাণিজ্যমন্ত্রী
Shikor Web Image - 2026-03-02T154943.068
জ্বালানি খাতে অশনিসংকেত
Shikor Web Image - 2026-03-01T151104.936
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে যে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে
Shikor Web Image (20)
ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা

১৫ এপ্রিলের মধ্যে এলএনজি-এলপিজি নিয়ে আসছে আরও ৫ জাহাজ

১৫ এপ্রিলের মধ্যে এলএনজি-এলপিজি নিয়ে আসছে আরও ৫ জাহাজ স্বস্তি ফিরছে জ্বালানি খাতে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ৫টি জাহাজ পৌঁছাবে, কমবে সরবরাহের চাপ।

বাংলাদেশে এলএনজি এলপিজি জাহাজ আগমন ঘিরে জ্বালানি খাতে স্বস্তির আভাস মিলছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশের বিভিন্ন টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই জাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ও এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বহনকারী জাহাজ দেশের জলসীমায় প্রবেশ করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচটি জাহাজ আসার ঘোষণা পাওয়া গেছে এবং সবগুলোই বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এসব জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে এলএনজি এলপিজি জাহাজ আগমন: কোন জাহাজ কখন আসছে

১১ এপ্রিল

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘কংটং’ নামের একটি এলএনজি জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে প্রায় ৬৯ হাজার টন কার্গো নিয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

১৩ এপ্রিল

মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি বহনকারী ‘পল’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

শুক্রবার (সম্ভাব্য)

  • ‘মর্নিং জেলি’: মালয়েশিয়া থেকে ২,৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে
  • ‘ইএমইআই’: যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে মহেশখালীর এফএসআরইউ-তে পৌঁছাবে

১৫ এপ্রিল

অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’ নামের একটি জাহাজ ৬৪,৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

এই ধারাবাহিক আগমন জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ও মহেশখালী টার্মিনালে কার্যক্রম

এই চালানের মাধ্যমে মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)-এ এলএনজি সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি সরবরাহের জন্য পৃথক জাহাজগুলো পৌঁছাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অকটেন ও ফুয়েল অয়েল আগমন

এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানিও আসছে:

  • বুধবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি ট্যাংকার ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়
  • বৃহস্পতিবার বিকেলে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করার পর অকটেন খালাস শুরু হয়
  • একই রাতে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি ট্যাংকার হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে বন্দরে আসে

এসব জ্বালানি আগমন দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

আগের চালান: চাপ কমাতে সহায়ক

এর আগে ২ ও ৫ এপ্রিল যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে ৬৯ হাজার ৮৮১ টন এবং ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন এলএনজি বাংলাদেশে আসে। এসব চালান জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মাসজুড়ে এলএনজি আমদানির চিত্র

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানিয়েছেন:

  • চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে
  • ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে
  • প্রতিটি জাহাজে সাধারণত ৬৯,০০০ থেকে ৭০,০০০ টন গ্যাস থাকে

অন্যদিকে, মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি জাহাজে প্রায় ৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছে বলে আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে।

সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাহাজের দ্রুত বার্থিং ও খালাস কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন:

সবমিলিয়ে, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আগমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত