এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (9)
ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি
Untitled design (6)
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনাঃ বিক্ষোভ থেকে তিনজন আটক
Untitled design (3)
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ
Untitled design
স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা
Untitled design (61)
আগামী ৫ দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে

জিয়াউর রহমান সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেনঃ রাষ্ট্রপতি

জিয়াউর রহমান সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। বুদ্ধ পূর্ণিমায় সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে “বাংলাদেশি” পরিচয়ের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে বঙ্গভবনে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বুদ্ধ পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির মূল বার্তা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো দেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ পাহাড় ও সমতলের সকল জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একত্র করে “বাংলাদেশি” পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার মতে, এই ধারণা জাতীয় পরিচয়ের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, জাতির অর্জন ও সাফল্য কোনো একক গোষ্ঠীর নয়—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তা সবার।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি পরিচয় ঐক্য: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে আসে যে, “বাংলাদেশি” পরিচয়ের ধারণা দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও পরিচয়কে একত্রিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। এই ধারণার মাধ্যমে ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক পটভূমির মানুষ একটি জাতীয় পরিচয়ের অধীনে একত্রিত হতে পেরেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে এই ঐক্যের চেতনা আরও প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গৌতম বুদ্ধের বাণী ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

রাষ্ট্রপতি এ সময় বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গৌতম বুদ্ধের মানবতা, সাম্য ও অহিংসার শিক্ষা আজও বিশ্ব শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, এই মূল্যবোধগুলো শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

সরকারের নীতি ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই মূলনীতির ভিত্তিতে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি একটি সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিলেন

এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—

  • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
  • প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার
  • বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত
  • আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের প্রধান পুরোহিত ধর্মপ্রিয় মহাথের
  • বৌদ্ধ ধর্মের অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ

এছাড়াও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনুষ্ঠানের শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ধর্ম সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত