হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা কাল পেলে পরশুই দেশে ফিরব, সাকিব আল হাসান দেশে ফেরা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা পেলে খুব দ্রুতই দেশে ফিরবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই অলরাউন্ডার একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দলীয় অবস্থান এবং আইনি পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তার মূল উদ্বেগ নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় হয়রানি।
সাকিব আল হাসান দেশে ফেরা: কী বললেন তিনি?
সাকিব আল হাসান দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে এজন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ।

তার ভাষায়,
“আমি আইনের সম্মুখীন হতে চাই, কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশেষ কোনো সুবিধা চাই না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে হয়রানি ছাড়া আইনি প্রক্রিয়া চাই।”
তিনি আরও জানান,
“যদি কালই এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাহলে পরশুই দেশে ফিরব।”
এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তার দেশে ফেরা এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে প্রশাসনিক নিশ্চয়তার ওপর।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা
ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতিতে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাকিব।
তিনি বলেন,
- তার কখনো দল পরিবর্তনের ইচ্ছা ছিল না
- ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকার ইচ্ছা রয়েছে
তার বক্তব্য অনুযায়ী,
“আমি ছোট দলেও খেলেছি, কিন্তু দল পরিবর্তনের অভ্যাস আমার নেই।”
এটি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে এবং দলীয় আনুগত্যের বিষয়টিকে সামনে আনে।
আওয়ামী লীগ নিয়ে মন্তব্য
বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকলেও এই অবস্থা স্থায়ী নয় বলে বিশ্বাস করেন সাকিব।
তিনি বলেন,
“কেউ কাউকে আজীবন নিষিদ্ধ রাখতে পারে না। এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।”
তার মতে,
- রাজনৈতিক দমন-পীড়ন দীর্ঘমেয়াদে কোনো উন্নতি আনে না
- গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি
প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান
সাকিব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেন—প্রতিহিংসা।
তিনি বলেন,
“আগে যদি ভুল হয়ে থাকে এবং এখন আবার সেই ভুল করা হয়, তাহলে এই চক্র চলতেই থাকবে।”
তার মতে,
- কাউকে না কাউকে এই চক্র ভাঙতে হবে
- যে দল এটি করবে, তারাই জনগণের আস্থা পাবে
এই মন্তব্যে তিনি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা
সাকিব জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন।
তার দাবি,
- সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি আবারও জয়ী হবেন
- বিশেষ করে মাগুরার জনগণের ওপর তার আস্থা রয়েছে
তার ভাষায়,
“সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে।”
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির কারণে এবার নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্য হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন সাকিব।
তবে তার মেয়াদ ছিল মাত্র ৭ মাস।
৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
আইনি জটিলতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে সাকিবের বিরুদ্ধে রয়েছে:
- হত্যা মামলা
- চেক জালিয়াতির অভিযোগ
- শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মামলা
তিনি জানিয়েছেন, এসব মামলা আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চান।
তবে তার মতে, দেশে ফেরার প্রধান বাধা:
- নিরাপত্তাহীনতা
- হয়রানির আশঙ্কা
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাকিবের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয়—“নিরাপত্তা”।
তার দাবি অনুযায়ী:
- তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না
- শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায্য আচরণ চান
এটি ইঙ্গিত করে যে, তার দেশে ফেরা একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।




