চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্য সফরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ঢাকা ছাড়লেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০১ এ তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই তার এই সফর।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্যরা, চিকিৎসক দল, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্য সফর ঘিরে সরকারি প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে ছিল উচ্চপর্যায়ের সরকারি উপস্থিতি। বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপতির সফরটি মূলত চিকিৎসা-সংক্রান্ত হলেও সরকারি প্রটোকল অনুসরণে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সফরের গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শে ফলোআপ স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে নিয়মিত ফলোআপের অংশ হিসেবেই যুক্তরাজ্যে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কোন হাসপাতালে বা কতদিন চিকিৎসা চলবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তবে চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত বিষয়েও প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে হয়েছিল কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপ চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
বর্তমান সফরটিও সেই ধারাবাহিক চিকিৎসা তদারকির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সরকারিভাবে উদ্বেগজনক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সফরে কারা রয়েছেন সঙ্গে
রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন—
- সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানা
- পরিবারের সদস্যরা
- ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল
- স্টাফ নার্স
- বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফরে সাধারণত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতেই এমন প্রতিনিধি দল সঙ্গে থাকে।
রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও সফরের তাৎপর্য
রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর সবসময়ই রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। যদিও এবারের সফর চিকিৎসাজনিত, তবুও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার যাত্রা ও প্রত্যাবর্তন ঘিরে সরকারি পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত সফর হওয়ায় সফরসূচিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা কূটনৈতিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কখন ফিরবেন রাষ্ট্রপতি
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের। সফর শেষে তিনি পুনরায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও সফরসংক্রান্ত যেকোনো নতুন তথ্য প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে জানানো হতে পারে।




