এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
ইরানের এই পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (51)
কাতারকে কীভাবে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত আমির শেখ হামাদ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (39)
অং সান সু চি আমাদের বোন : মিয়ানমার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (5)
টরন্টোয় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ২, আহত ৫

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুলিশ

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুলিশ। উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অ্যান উইডিকম্ব হত্যা তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক সরকারি মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিজের বাড়িতে তার মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা এখন হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনার ধরন এবং এর সঙ্গে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেইলর বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে স্পষ্ট হয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা কতদিন ধরে করা হয়েছিল এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।

অ্যান উইডিকম্ব হত্যা তদন্ত: কী বলছে পুলিশ?

লরেন্স টেইলর জানান, তদন্তকারীরা হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমান পর্যায়ে হামলাকারীর উদ্দেশ্য কিংবা কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

তার ভাষায়, এটি একটি জটিল তদন্ত। তাই সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে যাতে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

ঘটনার পর শনিবার গভীর রাতে এক শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিককে স্থানীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

প্রথমে তাকে অ্যান উইডিকম্বকে হত্যার সন্দেহে আটক করা হয়। পরে সোমবার সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, এমন কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সন্দেহে তদন্ত চলছে।

লরেন্স টেইলর বলেন, অ্যান উইডিকম্ব হত্যার তদন্ত এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্ত—দুটি বিষয়ই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অ্যান উইডিকম্ব কে ছিলেন?

৭৮ বছর বয়সী অ্যান উইডিকম্ব ব্রিটিশ রাজনীতির পরিচিত একটি নাম।

তিনি নাইজেল ফারাজের জনতাবাদী দল রিফর্ম ইউকের সদস্য ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ২০১০ সালে পার্লামেন্ট থেকে অবসর নেন।

গত বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামীণ এলাকায় নিজ বাড়িতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এই হত্যাকাণ্ডের পর ব্রিটেনে আবারও রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত এক দশকে দায়িত্ব পালনরত দুইজন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

বর্তমান ঘটনাটি সেই উদ্বেগকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

অন্য কোনো রাজনীতিকও কি লক্ষ্যবস্তু ছিলেন?

সাংবাদিকরা জানতে চান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি রিফর্ম ইউকের অন্য কোনো রাজনীতিককেও লক্ষ্য করেছিলেন কি না।

এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি লরেন্স টেইলর।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার তদন্তে পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব হলো বর্তমানে জননিরাপত্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য নতুন করে কোনো হুমকি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও চলছে পৃথক তদন্ত

লরেন্স টেইলর জানান, তদন্তের একটি পৃথক অংশে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজও চলবে।

যদি নতুন কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এই মুহূর্তে বর্তমানে কোনো নতুন হুমকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

অ্যান উইডিকম্ব হত্যা তদন্ত এখনো চলমান। ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকি—সব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয়।

সর্বাধিক পঠিত