আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের দাপুটে শুরু: অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট, বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৯৬ রান
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (19)
অনির্দিষ্টকালের বিরতিতে মেসি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (14)
এখন পর্যন্ত আমিই অধিনায়ক : বাবরের অধিনায়কত্বে ফেরার গুঞ্জনে শাহিন আফ্রিদি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ‘বিগ থ্রি’

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ জানালেন কামিন্স

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ জানালেন কামিন্স, ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক হারের পর তাঁর ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ হিসেবে ম্যাচের প্রথম দিনকে চিহ্নিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচ শেষে পরাজয়ের জায়গাগুলো নিয়ে জানতে চাইলে কামিন্সের বক্তব্যে উঠে আসে, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া যে অবস্থায় পড়েছিল, সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের হাতে চলে যায়।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকরা মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ নিয়ে কামিন্সের ব্যাখ্যা

ম্যাচ শেষে প্যাট কামিন্স পরাজয়ের মূল জায়গা হিসেবে প্রথম দিনের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া এমন অবস্থায় পড়ে যায়, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেও অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। বাংলাদেশের পেসাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। ফলে স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।

এই ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চাপ তৈরি করে। প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা চলে যায়। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়া লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

কামিন্সের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, ম্যাচের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়া যে অবস্থানে চলে গিয়েছিল, সেটিই পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

প্রথম ইনিংসেই বড় লিড বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে ব্যাট হাতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। দলের হয়ে তানজিদ হাসান তামিম করেন ১০১ রান। এটি ছিল তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।

তানজিদের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মুমিনুল হক ৪৯ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ রান করেন। এই ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।

ফলে প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার জন্য তখন ম্যাচে ফেরার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যায়।

এ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে প্রথম ইনিংসের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অস্ট্রেলিয়া যেখানে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়, সেখানে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে শুধু নিজেদের ইনিংস বড় করতে হয়নি, পাশাপাশি প্রথম ইনিংসের বড় ঘাটতিও পুষিয়ে নিতে হয়েছে।

ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতেও ফেরেনি অস্ট্রেলিয়া

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রানের সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।

তবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ২৮৪ রানের বেশি এগোয়নি। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ শিকার করেন ৩ উইকেট।

ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সামনে বড় কোনো লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করার পর বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় মাত্র ৫৭ রান।

৫৭ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে বাংলাদেশ

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে হারায়। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক।

দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হাতে রেখেই ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায়। এর ফলে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সে শান্তর সন্তুষ্টি

বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই জয়কে দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে দলের পেসাররা যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়া এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানের বেশি করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বোলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেট এবং হাসান মাহমুদের ৩ উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং প্রতিরোধ ভেঙে দেয়।

অন্যদিকে ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে রান তুলেছে। তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস দলকে বড় লিড এনে দেয়।

ঐতিহাসিক জয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডারউইনে বাংলাদেশের এই জয় টেস্ট ক্রিকেটে দেশের জন্য একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের এই জয় দুই ম্যাচের সিরিজের সমীকরণেও বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছে।

প্রথম টেস্ট শেষে সিরিজের ব্যবধান এখন ১-০। অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সিরিজ সমতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তবে প্রথম টেস্টের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া চাপের মধ্যে পড়ে। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ ২২৮ রানের লিড নেয়। এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি।

সব মিলিয়ে প্যাট কামিন্সের বিশ্লেষণে ম্যাচের প্রথম দিনের ঘটনাগুলোই অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথম ইনিংসে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ার পর সেটি পূরণ করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ: ম্যাচের মোড় ঘোরে শুরুতেই

ডারউইন টেস্টের ফলাফল দেখলে ম্যাচের গতিপথের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে ১৯৮ রান করে। বাংলাদেশ জবাবে ৪২৬ রান তুলে নেয়। ফলে ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা।

এরপর অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এক উইকেট হারালেও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায়।

অর্থাৎ ম্যাচের শুরুতে তৈরি হওয়া ঘাটতি পরবর্তী দুই ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়া পূরণ করতে পারেনি। প্যাট কামিন্সের বক্তব্যও সেই দিকেই ইঙ্গিত করে।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটের পরাজয়ের পর প্যাট কামিন্স প্রথম দিনকে হারের বড় কারণ হিসেবে দেখেছেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়া, বাংলাদেশের ৪২৬ রানের জবাব এবং ২২৮ রানের লিড—সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরুতেই বাংলাদেশের হাতে চলে যায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলাররা তা হতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দলের পেসার ও ব্যাটারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পথ তৈরি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত