আরও খবর

News Photocard (12)
নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার মামলা করল বিমান সংস্থা
News Photocard (25)
তৌসিফ ভাইয়াকে নিয়ে বলতে থাকলে শেষ হবে না : বর্ণিতা
News Photocard (45)
পপির পাশে দাঁড়ালেন ওমর সানী, বললেন ‘ধর্ম-কর্ম দুইটা আলাদা জিনিস’
News Photocard (42)
‘শাহরুখকে কেন মেরেছিলেন?’ দিলীপকে ভক্তের প্রশ্ন
News Photocard (6)
অভিনয়ে আর ফিরবেন না পপি, বাঁচতে চান আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে

গয়না ডাকাতির মামলায় ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান, প্যারিসের ভয়াবহ গয়না ডাকাতির মামলায়। ২০১৬ সালের ঘটনায় আদালতের প্রতীকী রায়ে মিলল বিচার ও স্বীকৃতি।

প্যারিসের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ২০১৬ সালের অস্ত্রের মুখে গয়না ডাকাতির ঘটনায় মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে প্রতীকী ১ ইউরো (১.১৫ ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার রায় বিশ্লেষণ করে কিমের আইনজীবী এ তথ্য জানান। কিম কার্দাশিয়ান ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন মূলত অর্থের জন্য নয়; বরং অপরাধের স্বীকৃতি ও জবাবদিহির জন্য।

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্যারিস ফ্যাশন উইক চলাকালে পুলিশের পোশাকে আসা ডাকাতেরা কিমকে বেঁধে রেখে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গয়না লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি তার জন্য গভীরভাবে ভীতিকর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেই ঘটনার স্বীকৃতিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কিম কার্দাশিয়ান ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ কেন পেলেন

আদালতের রায়ের পর কিম কার্দাশিয়ান ও তার স্টাইলিস্ট সিমোন হারুশ যৌথ বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্তকে শুধু অর্থের দিক থেকে দেখার সুযোগ নেই। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল বিচার পাওয়া এবং ভুক্তভোগী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়।

কিম ওই ডাকাতির ঘটনাকে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ফরাসি বিচার ব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিমের পক্ষ থেকে চাওয়া ১ ইউরো ছিল প্রতীকী পরিমাণ। অর্থাৎ, চুরি যাওয়া বিপুল মূল্যের গয়নার আর্থিক মূল্য ফেরত পাওয়ার পরিবর্তে মামলায় জবাবদিহি ও স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণের চেয়ে স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ

মামলার এই দিকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাধারণভাবে ক্ষতিপূরণ বলতে ক্ষতির আর্থিক প্রতিকার বোঝানো হলেও কিমের দাবিতে প্রতীকী অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যৌথ বিবৃতিতে কিম ও সিমোন হারুশ জানান, ২০১৬ সালের প্যারিসের ঘটনার অভিজ্ঞতা ছিল গভীরভাবে মানসিক আঘাতের। আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের কাছে সেই ঘটনার স্বীকৃতি ও জবাবদিহির প্রতিফলন।

কিম কার্দাশিয়ান ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনাটি তাই শুধু একটি অর্থমূল্যের আদালতের আদেশ নয়; মামলার প্রেক্ষাপটে এটি প্রতীকী বিচারিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবেও উঠে এসেছে।

২০১৬ সালের প্যারিসে কী ঘটেছিল

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্যারিস ফ্যাশন উইক চলছিল। এ সময় পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতদের একটি দল কিম কার্দাশিয়ান যে বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করছিলেন সেখানে যায়।

ডাকাতেরা তাকে বেঁধে রেখে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তিনি সশস্ত্র ডাকাতদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

পরে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় তিনি নিজের জীবন নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের বিচার চলাকালে তিনি আদালতে এ ঘটনার মানসিক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন।

ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া গয়নার বড় একটি অংশ পরে আর উদ্ধার করা যায়নি। Reuters জানিয়েছে, হারিয়ে যাওয়া গয়নার মধ্যে কিমকে তার তৎকালীন স্বামী কানিয়ে ওয়েস্ট, বর্তমানে ‘ইয়ে’ নামে পরিচিত, দেওয়া ৪ মিলিয়ন ডলারের এনগেজমেন্ট রিংও ছিল।

‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিত চক্র

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডাকাতদের বয়সের কারণে ফ্রান্সে তাদের ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি পাওয়া যায়। বিচার চলার সময় চক্রটির কয়েকজনের বয়স ছিল ৬০ ও ৭০-এর কোঠায়।

তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অন্যান্য অভিযোগে বিচার হয়। সূত্র অনুযায়ী, এই মামলায় মোট আটজনকে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

চক্রটির বয়স ও অপরাধের ধরন মামলাটিকে বিশেষভাবে আলোচিত করে তোলে। পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে হোটেলে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করার ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

একই মামলায় আরও ক্ষতিপূরণ

কিম কার্দাশিয়ানের পাশাপাশি একই ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ব্যক্তিদের জন্যও আদালত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ডাকাতদের কবলে পড়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হোটেলের সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১০৯,৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। Reuters-এর প্রতিবেদনেও ওই রিসেপশনিস্টের জন্য প্রায় ১১০,০০০ ইউরো ক্ষতিপূরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, একই মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির ধরন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আলাদা হয়েছে। কিমের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১ ইউরো ছিল তার নিজের চাওয়া প্রতীকী অর্থ।

২০২৫ সালের বিচার ও পরবর্তী রায়

২০১৬ সালের ডাকাতির প্রায় এক দশক পর মামলাটি আবার আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের বিচারপ্রক্রিয়ায়। ওই সময় কিম কার্দাশিয়ান আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত অমার আইত খেদাশের বয়স তখন ৬৯ বছর ছিল। বিচার চলাকালে কিম তাকে ক্ষমা করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিলেন, ক্ষমা করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ওই ঘটনার কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত মুছে গেছে। Reuters জানিয়েছে, খেদাশকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আরও সাতজন এই ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দেওয়ানি মামলার ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কিমের জন্য প্রতীকী ১ ইউরো নির্ধারণ করা হয়।

বিচার, জবাবদিহি ও স্বীকৃতির দিক

মামলার রায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিম কার্দাশিয়ানের দাবির কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রতীকী ক্ষতিপূরণ। তার বক্তব্য ও যৌথ বিবৃতিতে অর্থের পরিমাণের চেয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে স্বীকৃতি এবং দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

কিম কার্দাশিয়ান ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনা তাই ২০১৬ সালের সেই ডাকাতির মামলার দেওয়ানি পর্যায়ের একটি প্রতীকী ফলাফল হিসেবে সামনে এসেছে।

একই সঙ্গে হোটেলের সাবেক রিসেপশনিস্ট ও হোটেল কর্তৃপক্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একই ঘটনার বিভিন্ন ভুক্তভোগীর জন্য আদালতের পৃথক ক্ষতিপূরণ আদেশও স্পষ্ট হয়।

প্যারিসের সেই ডাকাতির মামলার বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০১৬ সালের ঘটনা থেকে ২০২৬ সালের রায় পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে মামলাটি বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়েছে। প্রথমে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, পরে অভিযুক্তদের বিচার এবং এরপর ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত দেওয়ানি প্রক্রিয়া—প্রতিটি ধাপেই ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে।

কিম কার্দাশিয়ানের ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত ১ ইউরো তার দাবিকৃত প্রতীকী অর্থের সমান। তাই এই রায়কে চুরি যাওয়া গয়নার আর্থিক মূল্য পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং প্রতীকী ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৬ সালের সেই ঘটনার পরও অধিকাংশ গয়না উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হয়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আদালতের সিদ্ধান্তে কিমের দাবি করা প্রতীকী ক্ষতিপূরণ অনুমোদিত হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত