প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় অগ্রসর হচ্ছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য; বৈশ্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতায় শক্ত অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের প্যানেলে তিনি এ বক্তব্য দেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বার্তা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা কেবল অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি গণতন্ত্র, বৈশ্বিক শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
সেনেগালের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুনঃউল্লেখ
সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই প্যানেলে শামা ওবায়েদ ইসলাম সেনেগালকে ধন্যবাদ জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম আফ্রিকান দেশগুলোর একটি ছিল সেনেগাল।
তিনি ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি অর্থনৈতিক, ডিজিটাল, মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি উন্নয়নকে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা একসঙ্গে কাজ করছে।
যুবসমাজ ও ইতিবাচক পরিবর্তন
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তার মতে, নতুন প্রজন্মই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চালিকাশক্তি এবং এই গণতান্ত্রিক যাত্রায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
শান্তিরক্ষা ও বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকা
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি “নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা” এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ
শামা ওবায়েদ ইসলাম নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নারীর শিক্ষা ও অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এছাড়া সমাজে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নারীর সক্রিয় ভূমিকার ওপরও জোর দেন তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব
ডিজিটাল অপপ্রচার এবং বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদারে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন, যা ফোরামে উপস্থিতদের প্রশংসা অর্জন করে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক দায়িত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দেন তিনি।
একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াকে বাংলাদেশের মানবিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক বৈঠক ও সহযোগিতা বৃদ্ধি
ফোরামের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ওনিশি ইয়োহেই এবং পর্তুগালের স্টেট সেক্রেটারি আনা ইসাবেল জাভিয়েরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তিনি ওমান, চাদ ও সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রীদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণ
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে। এতে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সেনেগালে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বীকৃত দূত সাইদা ফায়জুন্নেসাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি দেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া এই বক্তব্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।




