৩০ বছর পর বাংলাদেশ ছাড়া এমন বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় ৩০ বছরে এক ভয়াবহ নজির তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব নিয়ে।
বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। প্রথম দিনেই মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় দলের। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা, বিসিবির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান এবং আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপ বয়কট করেছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বছর পর বাংলাদেশ ছাড়া কোনো বিশ্বকাপ মাঠে গড়াল—যা ক্রিকেট ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কীভাবে তৈরি হলো এই সংকট
সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিতে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে।
আইসিসি সেই অনুরোধ গ্রহণ না করে উল্টো সিদ্ধান্ত নেয়—বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়েই বাস্তব রূপ নেয় বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উপস্থিতি

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে টানা নয়টি আসরে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে। এটি ছিল দশম আসর, যেখানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ মাঠে নামতে পারছে না। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুধু একটি অনুপস্থিতি নয়, বরং ধারাবাহিক ইতিহাসের বড় ভাঙন।
৩০ বছর পর বিশ্বকাপ বাংলাদেশ ছাড়া
ওভারঅল বিশ্বকাপ বিবেচনায় নিলে, বাংলাদেশ ছাড়া শেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে যতবার বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট হয়েছে, প্রতিবারই লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব ছিল। সময়ের হিসেবে প্রায় ৩০ বছর পর আবারও দেখা গেল বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ—যা বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলেছে।
মাঠে বাংলাদেশ নেই, তবে ক্রিকেট থেমে নেই
ভারতে না গিয়ে বাংলাদেশ দল বর্তমানে মিরপুরে তিন দলের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে অংশ নিচ্ছে। অথচ আজই কলকাতায় ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বেলা তিনটায় মাঠে নামার কথা ছিল লিটন দাসদের। চিত্রনাট্য পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ায় দর্শক হিসেবে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি ও বিতর্ক
বাংলাদেশকে বাইরে রেখে আইসিসি র্যাংকিংয়ের ১৪তম দল স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এতে করে টুর্নামেন্টের সার্বজনিক গুরুত্ব ও প্রতিযোগিতার মান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাই শুধু অংশগ্রহণের নয়, গ্রহণযোগ্যতার সংকটও তৈরি করেছে।
আইসিসির সভায় পাকিস্তানের ভূমিকা
আইসিসির সভায় বাংলাদেশ একমাত্র সমর্থন পেয়েছিল পাকিস্তানের কাছ থেকে। শুরুতে পাকিস্তান জানায়, বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে তারাও বিশ্বকাপ বয়কট করবে। পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না।
বিশ্বকাপে না থেকেও বাংলাদেশের উপস্থিতি
যদিও মাঠে বাংলাদেশ নেই, তবু বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পুরোপুরি বাংলাদেশশূন্য নয়। বাংলাদেশের দুই আম্পায়ার—শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত ও গাজী সোহেল—বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করবেন।
শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার এবং তিনি ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজী সোহেল প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করবেন।
এছাড়া ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের আতহার আলি। তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক সিরিজ ও বিশ্বকাপে ধারাভাষ্য দিয়ে থাকেন এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি নাম।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্বের প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ইভেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি দলকে বাইরে রেখে আয়োজনের সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।




