ভারতীয় ক্রিকেটের দাপট অব্যাহত, বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত।
ভারতীয় ক্রিকেটের দাপট অব্যাহত: দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজ জয়
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটের দাপট থামছে না। কুইন্টন ডি কক ও ডেভাল্ড ব্রেভিসের আগ্রাসী ব্যাটিং সত্ত্বেও ভারতীয় দল দৃঢ় মনোযোগের সাথে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আহমেদাবাদে চার ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩০ রানের জয় নিয়ে ভারত সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে।
বুমরাহর নিয়ন্ত্রিত বোলিং

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জসপ্রিত বুমরাহ। শিশির ভেজা মাঠে চার ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে দুই উইকেট নেন তিনি। শেষদিকে মার্কো জানসেনের টানা ছক্কায় উত্তেজনা তৈরি হলেও বুমরাহর নিখুঁত ইয়র্কারে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার আশা।
ব্যাটিংয়ে হার্দিক ও তিলক ভার্মা
ভারতের ইনিংসে ঝড় তুলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন হার্দিক। তিনি ২৫ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তিলক ভার্মা ৪২ বলে ৭৩ রান করে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। এই জুটি মাত্র ৭.২ ওভারে ১০৫ রান যোগ করে ভারতকে শক্ত অবস্থানে রাখে।
ওপেনিংয়ে সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা
শুভমান গিল না থাকায় ওপেনিংয়ে নামেন স্যামসন। অভিষেক শর্মার সঙ্গে দ্রুত শুরু করেন। ৫.৩ ওভারে ৬৩ রান যোগ হয়, তবে পাওয়ার প্লে শেষে ছন্দ হারান স্যামসন। তিনি ২২ বলে ৩৭ রান করে আউট হন।
মাঝের ওভারে সূর্যকুমার ও শিবম দুবের অবদান
মাঝের ওভারে সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবে আগ্রাসী ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। সূর্যকুমার ফিফটির দেখা না পেলেও নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকান। শিবম দুবে ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার তাড়া
২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে ম্যাচ নিজেদের দখলে নেয়। ১০ ওভারের মধ্যে ডি কক ও ব্রেভিস ১ উইকেটে ১১৮ রান যোগ করেন। শততম টি-টোয়েন্টিতে ডি কক ৩৫ বলে ৬৫ রান করেন।
তবে ১১তম ওভারে বুমরাহ ডি কককে আউট করে ম্যাচের ধারা পরিবর্তন করেন। পরপর উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে পড়ে। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ৫৫ রান, কিন্তু বুমরাহ ও ভারতীয় ফিল্ডিংয়ে ২০১ রানে থামে প্রোটিয়াররা।
এই জয়ে ভারত শুধুমাত্র সিরিজ জিতেছে না, বরং টানা ১৪টি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।




