এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক অগ্রযাত্রা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তাঃ দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (36)
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার শোক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (31)
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
যে কারণে ৬ দিন ধরে ডুবে আছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ

হাইকোর্টের রুল: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়

হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারাধীন রিট শুনানি চলছে। বিস্তারিত জানুন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের এই বেঞ্চের রুলের উদ্দেশ্য হলো, এই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না তা বিচারাধীন অবস্থায় যাচাই করা।

এর আগে সোমবার (২ মার্চ) এই বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও রিটকারীদের শুনানি

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং গাজী কামরুল ইসলাম।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও শুনানিতে অংশ নেন।

রিটের পটভূমি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেন।

এর আগে গত সপ্তাহে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

রিট আবেদনের মূল দাবি

রেদোয়ান-ই-খোদার রিট আবেদনে বলা হয়, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।” রিটে আদালতকে রুল জারি করা হলে, গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, গাজী মো. মাহবুব আলমের রিটে বলা হয়েছে, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না।” রিটে আদালতকে রুল জারি করলে, সংশ্লিষ্ট আদেশ এবং শপথের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়া ও প্রত্যাশিত প্রভাব

হাইকোর্টের এই রুল, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের রুলের ফলে, এই অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে।

বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, আদালত এই রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে প্রতিপক্ষের যুক্তি শুনতে সুযোগ দিচ্ছে এবং পরবর্তীতে বৈধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রাসঙ্গিক আইন ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ

জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) এবং গণভোট অধ্যাদেশ সংক্রান্ত রিটগুলোতে প্রধান বিষয় হলো সংবিধানের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিকতা থাকলে তা আইনগতভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে। এ ধরনের রিটগুলোতে রাষ্ট্রপক্ষ ও রিটকারীরা যথাযথভাবে আইনগত যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের পেশ করা দলিল ও যুক্তি আদালতের রায়কে প্রভাবিত করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত