এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
বিজিবির নতুন ৩০২৩ সদস্য শপথ: নিলেন দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার
Shikor Web Image (23)
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: দায়িত্বে থাকবে বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (19)
জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই: আমীর খসরু
Shikor Web Image (8)
১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: জামায়াত লড়বে কত আসনে?
Shikor Web Image (5)
কত আসনে লড়বে এনসিপি

বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে জানালেন নজরুল ইসলাম খান। সংস্কার, ভুয়া ভোটার, এনআইডি সংগ্রহ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে, ঠিক তখনই বিএনপির পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার ঘোষণা আসে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপি শুরু থেকেই যুক্ত ছিল এবং এখনও রয়েছে। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াটাই দলটির রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।

সংস্কার প্রস্তাবের সূচনা ও বিএনপির অবস্থান

নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি প্রথম থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সংস্কার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিও গঠিত হয়।

তিনি জানান,

“আমরা আলোচনায় অংশ নিয়েছি, কন্ট্রিবিউট করেছি এবং বহু বিষয়ে একমত হয়েছি।”

যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে Note of Dissent দিয়েছে। তবে এটিকে সংস্কারের বিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত মূলত সংস্কারের প্রতি দলটির ইতিবাচক অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে।

কেন বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিচ্ছে?

বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন নজরুল ইসলাম খান—

  1. সংস্কারের মৌলিক দর্শনের সঙ্গে বিএনপির ঐকমত্য

  2. অধিকাংশ প্রস্তাবে দলটির সক্রিয় অংশগ্রহণ

  3. বিরোধিতার জায়গায় Note of Dissent দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ

  4. গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো

  5. নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করার প্রত্যাশা

এই কারণগুলোই বিএনপির ‘হ্যাঁ’ ভোটের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে শক্ত ভিত্তি দেয়।

ভুয়া ভোটার ইস্যুতে গুরুতর অভিযোগ

বৈঠকের পর নজরুল ইসলাম খান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের কাছ থেকে—

  • এনআইডি কার্ড

  • মোবাইল নম্বর

  • বিকাশ নম্বর

সংগ্রহ করছে।

তার ভাষায়, এটি ভুয়া ভোটার তৈরির আশঙ্কা তৈরি করছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বহু নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তাই বিষয়টি নিছক প্রশাসনিক নয়, বরং এর পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

বিকাশ নম্বর সংগ্রহ: অর্থ লেনদেনের আশঙ্কা

ভোটারদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তার মতে, এটি ভবিষ্যতে আর্থিক লেনদেন বা ভোট কেনাবেচার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

এই বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত না হলে বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত–এর মতো ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি শুধু বিএনপির নয়—অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করছে।

সংবিধান অনুযায়ী, কেউ যদি বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন, তাহলেই তিনি নির্বাচনের জন্য যোগ্য। তবে মনোনয়নপত্রে নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

তবুও কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থিতা বাতিল করছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নও এই কারণে বাতিল হয়েছে। বিএনপির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা

বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্ট অনুরোধ জানানো হয়েছে—

  • এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে

  • দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে অযথা জটিলতা না বাড়াতে

  • সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান নজরুল ইসলাম খান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত শুধু একটি ভোটের অবস্থান নয়, বরং এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি—

  • সংস্কারপন্থী অবস্থান জোরালো করেছে

  • গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা দেখিয়েছে

  • আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সংলাপ ও অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্বাচন

গণভোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে Election Commission of Bangladesh–এর অফিসিয়াল ব্যাখ্যায়, যা একটি গ্রহণযোগ্য external authoritative source হিসেবে বিবেচিত।

গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে ভুয়া ভোটার, আর্থিক লেনদেন ও প্রার্থিতা বাতিলের মতো অভিযোগগুলো যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট এবং গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার একটি বার্তা দিতে চাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত